অনন্যার ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় আদালতের নির্দেশ

প্রকাশিত: ১০:১৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০২৬

অনন্যার ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় আদালতের নির্দেশ

Manual1 Ad Code

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তারকাদের ছবি, ভিডিও ও পরিচয় ব্যবহারের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। এবার এ ধরনের অপব্যবহার থেকে আইনি সুরক্ষা পেলেন বলিউড অভিনেত্রী অনন্যা পাণ্ডে।

তার নাম, ছবি, ভিডিও এবং পরিচয় ব্যবহার করে অনুমতিহীন বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও অপপ্রচার বন্ধে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছেন বম্বে হাইকোর্ট।

Manual6 Ad Code

একইসঙ্গে অভিনেত্রীর ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি করা আপত্তিকর ও বিতর্কিত কনটেন্ট ইন্টারনেট থেকে অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিচারপতি মাধব জামদার এ মামলার শুনানি শেষে এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।

Manual2 Ad Code

নিজের ব্যক্তিত্বের অধিকার (পার্সোনালিটি রাইটস) রক্ষায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অনন্যা পাণ্ডে।

তার অভিযোগ, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তার অনুমতি ছাড়াই ছবি, ভিডিও ক্লিপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি ভুয়া ছবি ব্যবহার করছে। এসব কনটেন্টের মাধ্যমে তার পরিচয় ও ব্যক্তিত্বকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে।

মামলার নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট পর্যালোচনা করে আদালত প্রাথমিকভাবে অভিনেত্রীর অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি দেখতে পান। বিচারপতি জামদার বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনন্যার গোপনীয়তার অধিকার, প্রচারের অধিকার, নৈতিক অধিকার এবং সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকারের পরিপন্থী।

এদিকে তারকাদের ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষা এবং এআই ডিপফেকের অপব্যবহার ঠেকাতে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক আইনি পদক্ষেপ সামনে আসছে। অনন্যা পাণ্ডের পাশাপাশি একই দিনে ‘অনুপমা’খ্যাত অভিনেত্রী রূপালি গঙ্গোপাধ্যায়ও আদালত থেকে একই ধরনের আইনি সুরক্ষা পেয়েছেন।

এর ঠিক আগের দিন দিল্লি হাইকোর্ট থেকে আইনি সুরক্ষা পান বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। তার নাম, ছবি ও কণ্ঠস্বরের অননুমোদিত ব্যবহার ঠেকাতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি এআই ভয়েস মডেল, চ্যাটবট ও আপত্তিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে সংবাদ পরিবেশন, রিভিউ, সমালোচনা, ব্যঙ্গ ও প্যারোডির মতো বিষয়কে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।

এর আগে অনিল কাপুর, অমিতাভ বচ্চন, জ্যাকি শ্রফ, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও আল্লু অর্জুনের মতো তারকারাও নিজেদের নাম, কণ্ঠস্বর ও মুখাবয়বের অননুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধে দিল্লি ও বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

Manual6 Ad Code

তারকাদের এমন ধারাবাহিক আইনি পদক্ষেপে স্পষ্ট হচ্ছে, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয় ও সৃজনশীল স্বত্বের সুরক্ষাও এখন বিনোদন জগতের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

 

Manual1 Ad Code