শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লিডিং ইউনিভার্সিটির  দুর্নীতির মামলা খারিজ

প্রকাশিত: ৬:৪৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০২৫

শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লিডিং ইউনিভার্সিটির  দুর্নীতির মামলা খারিজ

Manual5 Ad Code

সিলেট অলটাইম নিউজ :সিলেটের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটির উন্নয়ন কাজের অর্থ তছরুপ মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

Manual7 Ad Code

বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালত এ আদেশ দেন।

আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশফাকুজ্জামান চৌধুরী।

জানা যায়, লিডিং ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সচিব মো. লুৎফুর রহমান ২০২৩ সালে সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতে স্থপতি রাজন দাসসহ ৬ জনের নামে দুর্নীতির মামলা দায়ের করেন।

তাতে আসামি করা হয়, হোমল্যান্ড এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আখতারুজ্জামান, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক বিপ্লব কর, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর কৌশল বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান চৌধুরী মোহাম্মদ শামস ওয়াহিদ, স্থাপত্য বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক স্থপতি রাজন দাস, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অর্থ পরিচালক রজত কান্তি চক্রবর্তী, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সাবেক সচিব মেজর অব. শায়কুল হক চৌধুরী।

Manual5 Ad Code

এদিকে এই অভিযোগে সে সময় চাকুরিচ্যুত করা হয় স্থাপতি রাজন দাস, শায়কুল হক চৌধুরী, চৌধুরী মোহাম্মদ শামস ওয়াহিদ, রজত কান্তি চক্রবর্তীকে। পাশাপাশি এই মামলার প্রতিবাদ করায় তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী আজিজুল মাওলার বিরুদ্ধে তিনটি মামলাও করেছিলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

Manual8 Ad Code

এ সময় আদালত নালিশ আমলে নিয়ে প্রথমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পায়নি মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দেয় সংস্থাটি।

প্রতিবেদনের বিষয়ে বাদীপক্ষ নারাজি আবেদন করলে আদালত তা আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

সিআইডিও তদন্তে অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি বলে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আব্দুল মোমেন মামলাটি খারিজ করে দেন।

সেই আদেশের বিরুদ্ধে সম্প্রতি মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করে বাদীপক্ষ। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত দুই দিন শুনানি আয়োজন করেন। শুনানি শেষে আজ বুধবার (১২ নভেম্বর) রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন মহানগর দায়রা জজ আদলতের বিচারক মুনসী আব্দুল মজিদ।

Manual6 Ad Code

এমন রায়ের প্রতিক্রিয়ায় স্থপতি রাজন দাস বলেন, এ রায়ে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় এ মামলা দেয়া হয়। মামলার পাশাপাশি এই দুর্নীতির অভিযোগে আমাকে চাকরিচ্যুতও করা হয়। কিন্তু আজকের এমন রায়ে সত্যই প্রতিষ্ঠিত হলো।

তিনি আরো বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় সুন্দর ও দুর্নীতিমুক্তভাবে চলুক। পাশাপাশি আমার ১৬ বছরের শিক্ষকতার যে ন্যায্য পাওনা আছে তা যেনো কর্তৃপক্ষ বুঝিয়ে দেয়।’

এদিকে স্থপতি রাজন দাসকে চাকুরিচ্যুত করার প্রতিবাদে সে সময় টানা আন্দোলন করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। আদালতের এমন রায়ের পর খুশি তারাও।