সিলেট আসনে মুল প্রতিদ্বন্দ্বি হলেন যারা

প্রকাশিত: ১:০৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২৫

সিলেট আসনে মুল প্রতিদ্বন্দ্বি হলেন যারা

Manual7 Ad Code

সিলেটের ৬টি সংসদীয় আসনের চারটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। বাকি দুটি আসনের মধ্যে একটিতে বিএনপির একাধিক প্রার্থী চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণা। আর অপরটিতে ভবিষ্যত জোটসঙ্গী জমিয়তকে ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন চলছে। ফলে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি ও জামায়াত এবং অপরটিতে জমিয়তের সাথে জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা। তবে কয়েকটি আসনে বিএনপির প্রার্থী বদলের দাবি ওঠেছে। দলের হাইকমান্ডের কাছে প্রার্থী রিভিউয়ের দাবি জানাচ্ছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। সিলেট-১ আসন : 

Manual4 Ad Code

মর্যাদাপূর্ণ এই আসনে প্রচারণায় রাতদিন ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সভা, সেমিনার, কর্মশালা ও

মতবিনিময়ের মাধ্যমে তরুণ ভোটারদের মাঝে তিনি তাঁর আধুনিক চিন্তাভাবনা শেয়ার করছেন। এতে নতুন ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বাবা প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল মালিকের ক্লিন ইমেজও তার নির্বাচনের পাল্লা ভারি করছে। ২০১৮ সালে ‘রাতের ভোট’খ্যাত নির্বাচনে মুক্তাদির লক্ষাধিক ভোট পেয়েছিলেন। আরও এক ঘন্টা ভোটাররা সুযোগ পেলে ‘রাতের ভোট’ ছাপিয়ে মুক্তাদির বিজয়ী হতেন- এমন কথাও চাউর ছিল সেসময়। এবারও খন্দকার মুক্তাদিরের পক্ষে বিএনপি নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।

তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান এর আগে সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। সিলেট-১ আসনে প্রথমবারের মতো প্রার্থী হয়ে তিনি নির্বাচনী মাঠ জমাতে নিরলসভাবে কাজ করছেন। দলের নেতাকর্মীরা ‘আধাজল খেয়ে’ তাঁর পক্ষে মাঠে নেমেছেন।
সিলেট-২ আসন : 

বিএনপির গুম হওয়া নেতা ইলিয়াস আলীর ইমেজকে কাজে লাগিয়ে এই আসনে বেশ ভাল অবস্থানে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিনী তাহসিনা রুশদীর লুনা। ওই আসনের সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো ইলিয়াস আলী একটি আবেগের নাম।

আসটিতে লুনার প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ আবদুল হান্নান। আবদুল হান্নানের সাথে দলীয় নেতাকর্মী ও তাঁর ছাত্ররা মাঠে কাজ করছেন। এ আসনে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলীও কাজ করছেন। সিলেট-২ আসন : বিএনপির গুম হওয়া নেতা ইলিয়াস আলীর ইমেজকে কাজে লাগিয়ে এই আসনে বেশ ভাল অবস্থানে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিনী তাহসিনা রুশদীর লুনা। ওই আসনের সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো ইলিয়াস আলী একটি আবেগের নাম।

আসটিতে লুনার প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ আবদুল হান্নান। আবদুল হান্নানের সাথে দলীয় নেতাকর্মী ও তাঁর ছাত্ররা মাঠে কাজ করছেন। এ আসনে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলীও কাজ করছেন।

Manual6 Ad Code

সিলেট-৩ আসন :

Manual7 Ad Code

 এই আসনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক দলীয় মনোনয়ন পেয়ে কাজ করছেন। তবে এখনো আসনটিতে প্রার্থী বদলের আশায় আছেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এসালামের অনুসারীরা। আসনটিতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদ। সিলেটের যেসব আসনে জামায়াতের শক্ত অবস্থান রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এটি।

সিলেট-৪ আসন : 

এই আসনে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না দিলেও চেয়ারপার্সনে উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী দলীয় প্রার্থী দাবি করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার দাবি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাকে প্রার্থী হওয়ার কথা বলেছেন। তবে আরিফের দাবি সঠিক নয় আখ্যা দিয়ে প্রতিদিন মাঠে প্রচার-প্রচারণা ও শোডাউন করে যাচ্ছেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আবদুল হাকিম চৌধুরী।

আসনটিতে আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী। তিনিও নিয়মিত সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন।

ওই আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে রয়েছেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন। আসনটিতে বিএনপি-জামায়াত শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে।

সিলেট ৫ আসন:

আসনটিতে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা না করেনি। জোট হলে নির্বাচনে আসনটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেওয়া হবে- এমনটা মনে করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। আসনটিতে জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক প্রচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৮ সালেও তিনি বিএনপি জোট থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন মাওলানা আনোয়ার হোসেন খান।

সিলেট-৬ আসন :

 আসনটিতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছে দল। ইতোমধ্যে আসনভূক্ত উপজেলা বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জে বিশাল বিশাল শোডাউনের পাশাপাশি দিনরাত প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

Manual3 Ad Code

তবে মনোনয়ন ‘রিভিউ’র প্রত্যাশায় আছেন ২০১৮ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরীর অনুসারীরা।

আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা উত্তর জামায়াতের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন।