গুম কমিশন হচ্ছে না মানবাধিকার কমিশনই গুম কমিশনের দায়িত্ব পালন

প্রকাশিত: ১১:১৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০২৫

গুম কমিশন হচ্ছে না মানবাধিকার কমিশনই গুম কমিশনের দায়িত্ব পালন

Manual3 Ad Code

সিলেট অলটাইম নিউজ :আলাদা গুম কমিশন হচ্ছে না, মানবাধিকার কমিশনই গুম কমিশনের দায়িত্ব পালন করবে- এমন বিধান রেখে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫ চূড়ান্ত করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, মানবাধিকারের সংজ্ঞা সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এর ফলে সংবিধানে যে মৌলিক অধিকার আছে এর বাইরেও বাংলাদেশ যেসব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি অনুসমর্থন করেছে বা পক্ষভুক্ত হয়েছে, এমনকি আন্তর্জাতিক আইনে মানবাধিকারের যেসব ধারণা আছে, সেগুলো বলবৎ করার ক্ষেত্রেও মানবাধিকার কমিশন ভূমিকা রাখতে পারবে। আসিফ নজরুল বলেন, আগে মানবাধিকার কমিশন দুর্বল ছিল; নিয়োগ পদ্ধতিতে ত্রুটি এবং এখতিয়ারে মারাত্মক ঘাটতি ছিল। নতুন অধ্যাদেশের লক্ষ্য হলো কমিশনকে সত্যিকারের ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা, যাতে এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

Manual4 Ad Code

মানবাধিকার কমিশনের কাঠামো সম্পর্কে আইন উপদেষ্টা বলেন, একজন চেয়ারম্যান এবং চারজন সার্বক্ষণিক সদস্য (মোট পাঁচজন) নিয়ে কমিশন গঠিত হবে। চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগের জন্য আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি বাছাই কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে, যাঁরা সাক্ষাৎকার ও গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। আইন উপদেষ্টা আরও জানান, শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকার বা রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সংগঠিত সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় মানবাধিকার কমিশনকে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গুম প্রতিরোধ এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা আইনসহ মানবাধিকার সংরক্ষণমূলক যেকোনো আইনের মূল দায়িত্ব মানবাধিকার কমিশনকে প্রদানের সুযোগ রাখা হয়েছে। কমিশনের আদেশ প্রতিপালনকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

আইন উপদেষ্টা আরও জানান, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রচলিত আইনে শুধু পরিবারের সদস্যরা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন বলে বিধান ছিল। এ ক্ষেত্রে রোগীরা বিদেশ গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বাইরেও টাকাপয়সা দিয়ে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংস্থাপনের চেষ্টা করতেন। আসিফ নজরুল বলেন, এখন থেকে শুধু পরিবারের সদস্য নয়, যাঁদের সঙ্গে ‘ইমোশনাল অ্যাটাশমেন্ট’ আছে, কেউ যদি অন্য কাউকে নিঃস্বার্থভাবে কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করতে চান, সেটা আইনের মধ্য থেকে করার সুযোগ পাবেন।

Manual6 Ad Code