ট্রাম্পবিরোধী ‘নো কিংস’ আন্দোলন ছাড়াচ্ছে অতীতের সব রেকর্ড

প্রকাশিত: ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০২৬

ট্রাম্পবিরোধী ‘নো কিংস’ আন্দোলন ছাড়াচ্ছে অতীতের সব রেকর্ড

Manual3 Ad Code

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সব ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজার ৩০০-এরও বেশি সমাবেশে রাস্তায় নেমেছেন লাখো মানুষ। ‘নো কিংস’ আন্দোলনের এটি তৃতীয় বড় কর্মসূচি। আগের দুই বার শুধু বড় শহরগুলোয় এ আন্দোলন হয়েছিল। তবে এবার সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ছোট শহর ও রক্ষণশীল এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়েছে এই বিক্ষোভ। যার ফলে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছে ২৮ মার্চের এই আন্দোলনে।

Advertisement

Manual5 Ad Code

আন্দোলনের মূল বিষয় ছিল নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার। তবে এই আন্দোলনে প্রতিটি বিক্ষোভকারীর ভিন্ন ভিন্ন সব ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়েছে। সবার কাছে ‘নো কিংস’-এর অর্থ আলাদা। ইরানে নতুন যুদ্ধ, চড়া দাম, অভিবাসন দমন, গর্ভপাত অধিকার কমানো সব মিলিয়ে ক্ষোভের পাত্র হয়েছেন ট্রাম্প।

আপস্টেট নিউ ইয়র্কের একটি রিপাবলিকান এলাকায় ১৪ মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে প্রথমবারের মতো বিক্ষোভে আসা ৩৭ বছরের ক্যাইটলিন পিস বলেছেন, ‘সব কিছু মিলিয়েই এখানে এসেছি।’ তার হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘পরিস্থিতি কতোটা খারাপ হলে ইন্ট্রোভার্টরাও রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়!’

Manual3 Ad Code

মিনেসোটায় সবচেয়ে বড় সমাবেশটি হয়েছে। আয়োজকরা বলেছেন, এটি মিনেসোটার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ সমাবেশে বলেছেন, ‘যখন গণতন্ত্র ঝুঁকিতে পড়েছিল, তখন মিনেসোটা বলেছিল — আমরা বেঁচে থাকতে এটা হতে পারে না।’

ব্রুস স্প্রিংস্টিন মিনেসোটার মঞ্চে গান পরিবেশন করেন। জানুয়ারিতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত রেনে গুড ও অ্যালেক্স প্রেত্তির স্মরণে তিনি একটি গান গেয়েছেন। তার গানে ছিল, ‘ডিএইচএস থেকে কিং ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বাহিনী, কোটে বন্দুক ঝুলিয়ে মিনিয়াপোলিসে এসেছিল আইন প্রয়োগ করতে — তাদের কথা অনুযায়ী।’

Manual8 Ad Code

একজন সাবেক রিপাবলিকান ভোটার ৫৯ বছরের ড্যান শেশনি বলেছেন, ‘আমরা আবারও মধ্যপ্রাচ্যে আটকে যাব, বের হওয়ার পথ নেই।’ যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনীর সাবেক সদস্য ৫৭ বছরের মার্শা লুজিয়ার কাঁদো কাঁদো গলায় বলেছেন, ‘আমাদের মানুষ এমন একটা যুদ্ধের জন্য সেখানে আছেন, যেখানে যাওয়াই উচিত ছিল না।’

লস অ্যাঞ্জেলেসে লক্ষাধিক মানুষ জমায়েত হয়েছেন। ইকুয়েডরে জন্ম নেওয়া মার্কিন সেনা ভেটেরান ৬২ বছরের জন মেনা বলেছেন, ‘ট্রাম্প আমাকে আন্দোলনকারী বানিয়েছেন।’ সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থনীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘দ্রব্যমূল্য। হে ঈশ্বর! ইরান যুদ্ধের কারণে এখন আরও বেশি।’

গত অক্টোবরের বিক্ষোভে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। গিনেস বুক অফ রেকর্ডস জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ আন্দোলন ছিল এটিই। এবারের সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন।

এই বিক্ষোভ কমপক্ষে ১৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। রোম, প্যারিস, মাদ্রিদ, আমস্টারডাম, সিডনি ও টোকিওতে সমান্তরাল কর্মসূচি হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ‘নো কিংস’ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে দাবানলের মতো করে।

 

Manual1 Ad Code