জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের মূল্যায়ন ‎ও হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে ইআরআই ও ডব্লিউআরআইয়ের যৌথ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ৩:১৩ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২৬

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের মূল্যায়ন ‎ও হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে ইআরআই ও ডব্লিউআরআইয়ের যৌথ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
‎বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিগত ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে এবং ইনকিলাব মঞ্চ এর প্রধান মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার করতে বিলম্ব করলে সরকার পতনের জন্য দেশে-বিদেশে কঠোর আন্দোলন হবে বলে মন্তব্য করেন ইকুয়াল রাইটস ইন্টারন্যাশনাল ও ওমেন্স রাইটস ইন্টারন্যাশনাল এর বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা।
‎গত ৪ মে ২০২৬ সোমবার ব্রিটিশ পার্লামেন্ট স্কয়ারে লন্ডন ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইক্যুয়াল রাইটস ইন্টারন্যাশনাল ও উইমেন রাইটস ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে “Stop the Abuse of Power: Support a National Referendum” বা ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করুন: জাতীয় গণভোটকে সমর্থন করুন” শীর্ষক একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশটি পরিচালনা করেন ইআরআইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ ওসমান গনি, এবং সভাপতিত্ব করেন সভাপতি মোঃ মাহবুব আলী খান সুর। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চ ইন্টারন্যাশনাল এর সভাপতি জননেতা নিজামুদ্দীন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইআরআইয়ের উপদেষ্টা ডঃ আফরোজা আক্তার, সেক্রেটারি জেনারেল নওশীন মোস্তারি মিয়া সাহেব এবং ডব্লিউআরআইয়ের সভাপতি নাদিয়া ফাতেমা।

‎বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইনকিলাব মঞ্চ ইন্টারন্যাশনাল এর অন্যতম সদস্য মো গিয়াস উদ্দিন সোহাগ, সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক, সদস্য আব্দুল মুহিত, সদস্য রফিক আহমদ, সদস্য ফজল আহমদ, ইআর আইয়ের সহ-সভাপতি  মোঃ রোকতা হাসান, মোঃ হাসনাত আল হাবিব, মোঃ হারুন অর রশিদ, রুবেল আহমদ, মোঃ ইমাম হোসাইন, জয়েন্ট সেক্রেটারি সৈয়দ আব্দুল আজিজ মিলাদ, জয়েন্ট সেক্রেটারি মোঃ ইউসুফ মিয়া, মাইনোরিটি সেক্রেটারি তাহমিনা আক্তার, আইন উদ্দিন, ক্যাম্পেইন সেক্রেটারি মোঃ বদরুল ইসলাম, স্ট্যান্ড ফর হিউম্যান রাইটসের অফিস সেক্রেটারি সৈয়দ জুয়েল,  ইআরআইয়ের সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি  মাহমুদ হোসাইন, জয়েন্ট সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম, জয়েন্ট সেক্রেটারি রাহাদুল ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রেজাউল করিম (রাব্বি), অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মায়েদা হোসেন রাফা,এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এবিএম আকরাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি  মো: জাবেদ আহমেদ, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোঃ সোহরাব আলী,অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আব্দুল আলিম,  মোঃ হানিফ আহমেদ, ক্যাম্পেইন সেক্রেটারি সায়েম আহমদ, ক্যাম্পেইন সেক্রেটারি কাকলি আক্তার,  মোহাম্মদ বদরুল ইসলাম, ক্যাম্পেইন সেক্রেটারি আবু জেহাদ,পাবলিসিটি সেক্রেটারি আব্দুল সালাম, পাবলিক রিলেশন সেক্রেটারি তরিকুল ইসলাম জিসান, ইআরআইয়ের এর সদস্য, আখতারুজ্জামান, শাহ মোঃ হাসান মাহমুদ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ডব্লিউআরআইয়ের উপদেষ্টা মোহাম্মদ বদরুল ইসলাম,  জয়েন্ট সেক্রেটারি ফারিয়া আক্তার সুমি,অর্গানাইজিং সেক্রেটারি রেহা আক্তার, অফিস সেক্রেটারি আব্দুল কাদের জিলানী, কমিউনিটি সেক্রেটারি সমীর আহমদ, রিসার্চ সেক্রেটারি জুয়েল আহমদ মাহিম, পাবলিসিটি সেক্রেটারি মায়েদা হোসেন রাফা, ক্যাম্পেইন সেক্রেটারি তরিকুল ইসলাম জিসান, এক্সিকিউটিভ মেম্বার জান্নাতুল ফেরদৌস, এক্সিকিউটিভ মেম্বার ইউসুফ মিয়া প্রমূখ।

‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইনকিলাব মঞ্চ ইন্টারন্যাশনাল এর সভাপতি জননেতা নিজামুদ্দীন বলেন বাংলাদেশে ২০২৪ সালে জুলাই আগষ্টের গণ-অভ্যুত্থান না হলে জালেম ও সৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের পতন ঘটত না এবং বর্তমান সরকারও ক্ষমতায় যেতে পারতোনা তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা এই সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলে মনে করি।
‎তিনি বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চ এর প্রধান মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার দ্রুত কার্যকর করার দাবী করেন এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারীর গণভোটের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য সরকারকে আহ্বান করেন।

‎ডাক্তার আফরোজা আক্তার বলেন, একটা দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় গণ রায়ের মাধ্যমে। জুলাই রেফারেনডাম এর মাধ্যমে জনগণ “হাঁ”ভোট দিয়ে তাদের গণরায় দিয়েছে। তাই বর্তমান সরকারের উচিত এই গণরায়  প্রতিষ্ঠা করা। তা না হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মত আরেকটি অভ্যুত্থান এ সরকার দেখতে পাবে।

‎মো গিয়াস উদ্দিন সোহাগ বলেন, জুলাই ছাত্র-জনতার উপহার। একটা স্বৈরাচার সরকারকে পতন করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। কিন্তু এই সরকার ছাত্র-জনতার স্বপ্নকে নিয়ে আজকে হোলি খেলছে। কিন্তু এ সরকারের মনে রাখা উচিত এর পরিণাম কিন্তু স্বৈরাচার শেখ হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ হবে।

‎মোহাম্মদ আব্দুল মালিক  বলেন, জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদীর হত্যা বাংলাদেশের জন্য একটি অশনি সংকেত। তিনি দেশী ও বিদেশী ষড়যন্ত্রের শিকার। এই হত্যার বিচার না হলে বাংলাদেশ শিগগিরই অস্তিত্বের সংকটে পড়তে পারে।

‎আব্দুল মুহিত বলেন, যদি বর্তমান সরকার জুলাই সনদ বাস্তবের না করে এবং হাদী হত্যার বিচার না করে তাহলে তাদের অবস্থা হবে বিগত সরকারের মত। বিগত স্বৈরাচার সরকার পার্শ্ববর্তী দেশে পালাতে সক্ষম হয়েছে কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সুযোগটি ও পাবে না।

‎ফজল আহমদ বলেন, জুলাই সনদে স্পষ্ট তো বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা আছে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গুম অধ্যাদেশের কথা বলা আছে। কিন্তু এ সরকার এমন গুরুত্বপূর্ণ দুটি অধ্যাদেশকে বাতিল করেন। যাহা স্পষ্টত জাতির সাথে গাদ্দারী ছাড়া কিছুই নয়।

‎রফিক আহমদ বলেন,  আমরা বিগত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে নানান বিক্ষোভ সমাবেশ করেছি। এবং বিগত স্বৈরাচার সরকারকে হটাতে বাধ্য করেছি। তাই আমরা বিএনপি সরকারকে হুশিয়ার করে বলতেছি, আমরা অতীত ভুলে যাইনি আপনারা অতীতকে ভুলে যাবেন না। আপনারা জানেন আমরা স্বৈরাচার দমনে এই রাজপথে  ছিলাম । যদি আপনারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে স্বৈরাচারী হন তবে আমরা আপনাদেরকে ক্ষমতা থেকে টেনে হিচড়ে নামাতে বাধ্য করব।

‎নাদিয়া ফাতেমা বলেন, বাংলাদেশে নারীদের উপর নানান  নির্যাতন-নিপীড়ন চলছে তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। এ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আমরা দেখতে পেলাম অনেক নারী শিশু ধর্ষণের শিকার হয় যাহা খুবই উদ্বেগ জনক। আমরা এ সরকারকে বলবো জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটা সুষ্ঠু স্বাধীন বিচারবিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন যাতে এই ধরনের নারী শিশু নির্যাতন বন্ধ হয়।

‎সমাপনী বক্তব্যে মোঃ মাহবুব আলী খানসুর বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও জনগণের গণরায়কে সম্মান জানাতে হলে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। ৭০ শতাংশ মানুষের সমর্থন একটি শক্তিশালী বার্তা, যা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ