হ্যারি কেনের প্রেম কাহিনী হার মানাবে সিনেমাকে

প্রকাশিত: ১১:১৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২৬

হ্যারি কেনের প্রেম কাহিনী হার মানাবে সিনেমাকে

Manual4 Ad Code

বিশ্বকাপের মঞ্চে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে লিওনেল মেসি-কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে তুলনায় চলে এসেছেন হ্যারি কেন। তার প্রেম কাহিনি নিয়েও কৌতুহল বেড়েছে ফ্যানদের মধ্যে।

নকআউট পর্বে কঙ্গোর বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও হ্যারি কেনের জোড়া গোলে শেষ ষোলতে উঠেছে ইংল্যান্ড। মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে দর্শকরা যখন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেনকে নিয়ে উল্লাসে মেতেছেন, তখন মাঠের বাইরে এক শান্ত ও মধুর রূপকথা তৈরি করেছেন—আর তা হলো কেটি গুডল্যান্ডের সঙ্গে তার প্রেমকাহিনী।

Manual7 Ad Code

পূর্ব লন্ডনে স্কুলে পড়াকালীন বন্ধুত্ব থেকে যা শুরু হয়েছিল, তা বর্তমানে রূপ নিয়েছে আজীবনের বন্ধনে ও একটি সুখী পরিবারে।

হ্যারি কেন এবং কেটি গুডল্যান্ডের প্রথমবার দেখা হয়েছিল পূর্ব লন্ডনের লার্কসউড প্রাইমারি স্কুলে। তখন কেনের বয়স ছিল ১২ এবং কেটির ১১। ২০০৫ সালে ফুটবল কিংবদন্তি ডেভিড বেকহ্যাম যখন তাদের চিংফোর্ড ফাউন্ডেশন স্কুলে এসেছিলেন, তখন এই খুদে জুটির সঙ্গে তিনি একটি ছবিও তোলেন। স্কুলের দিনগুলিতেই তাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয় এবং ২০১২ সালে হাই স্কুলে ওঠার পর তারা ডেটিং শুরু করেন।

সম্পর্কের ওপর খ্যাতির নেতিবাচক প্রভাব ও চাপ কতটা পড়ে, তা নিয়ে কেন সবসময়ই খোলামেলা কথা বলেছেন। তার মতে, তারকা হওয়ার পর কে টাকার জন্য মিশছে আর কে ভালোবাসার জন্য, তা বোঝা কঠিন। তাই নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন।

Manual3 Ad Code

হ্যারি কেন বলেন, ‘আমি ভাগ্যবান যে আমি আমার ছোটবেলার ভালোবাসাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছি, যে আমার পুরো ক্যারিয়ার খুব কাছ থেকে দেখেছে।’

Manual4 Ad Code

কেটি গুডল্যান্ড ১৯৯৩ সালের ২১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। স্কুল শেষ করার পর তিনি লন্ডনের মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটি থেকে ২০১৪ সালে স্পোর্টস সায়েন্সে ডিগ্রি নিয়ে স্নাতক পাস করেন। বর্তমানে তিনি একজন পেশাদার ফিটনেস কোচ ও ট্রেনার। ২০১৭ সালে বাহামাসে ছুটি কাটানোর সময় এই জুটির বাগদান সম্পন্ন হয় এবং ২০১৯ সালের গ্রীষ্মে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের সময় কেন কেটিকে তার ‘সেরা বন্ধু’ ও ‘সোলমেট’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তারা এখন চার সন্তানের গর্বিত পিতামাতা। তাদের ঘরে রয়েছে আইভি জেন, ভিভিয়েন জেন, লুই হ্যারি এবং হেনরি এডওয়ার্ড। কেটির নিজস্ব লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে কেন সবসময় শ্রদ্ধা করেন। কেনের মতে, তার পরিবার এবং কেটির কঠোর পরিশ্রমই তাকে আজ বিশ্ব ফুটবলের এই সর্বোচ্চ স্তরে সফল হতে এবং সবসময় মাটির কাছাকাছি থাকতে সাহায্য করেছে।

লার্কসউড প্রাইমারির ছোটবেলার বন্ধু থেকে শুরু করে জীবনসঙ্গী হওয়া—তাদের এই প্রেমকাহিনী প্রমাণ করে যে বিশ্বজোড়া খ্যাতির চাপের মধ্যেও সত্যিকারের ভালোবাসা টিকে থাকতে পারে। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড যখন শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন মাঠের বাইরে কেটি গুডল্যান্ডের সঙ্গে তার সম্পর্কই হয়তো হ্যারি কেনের জীবনের সবচেয়ে বড় জয়।

Manual5 Ad Code