ঢাকা ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:০৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২৬
দক্ষিণ দিক থেকে সিলেট মহানগরের অন্যতম প্রবেশদ্বার হুমায়ুন রশীদ চত্বর। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সড়কপথে সিলেটে প্রবেশ করতে হলে অধিকাংশ যানবাহনকে এই চত্বর ব্যবহার করতেই হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল এই এলাকা অতিক্রম করে। ফলে চত্বরটি সিলেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশমুখে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লেগে থাকে তীব্র যানজট। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, দূরপাল্লার যাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়। মহানগরে প্রবেশ কিংবা শহর থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে এই চত্বরের যানজট যেন এখন নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ফেঞ্চুগঞ্জ-সিলেট, সিলেট-জকিগঞ্জ এবং সিলেট-ঢাকাদক্ষিণ-ভাদেশ্বর সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজারো মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন।
এই যানজটের অন্যতম কারণ সড়কের পাশে গড়ে উঠা অবৈধ স্ট্যান্ড ও পুলিশের খামখেয়ালিপনা। হুমায়ুন রশীদ চত্বরে পুলিশ ট্রাফিক বক্স থাকলেও এ বক্সের সামনেই নিয়মিতভাবে সিএনজিচালিতা অটোরিকশা ও বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠানামা করা হয়। পুলিশ বক্সের সামনে প্রায় সময় অটোরিকশার দীর্ঘ সারি দেখা যায়। পুলিশের নাকের ডগায় নিয়ম অমান্য করে নিয়মিত যাত্রী উঠানামা করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মুখে বেশিরভাগ সময় অন্তত ৫-৭টি দুরপাল্লার বাস ও আঞ্চলিক বাস ও অটোরিকশা দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তার একাংশ দখল করে যাত্রী উঠানামা করে। এতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
ঢাকাগামী ও হবিগঞ্জগামী বাসের অনেকগুলো নির্ধারিত কাউন্টার বা টার্মিনালে না গিয়ে সরাসরি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে। কোনো কোনো বাস ১০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত একই স্থানে অবস্থান করে। একইসাথে কয়েকটি বাস দাড় করিয়ে যাত্রী তুলায় পেছনে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়। একই সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশাও যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতিতেই প্রতিনিয়ত এসব অনিয়ম চলছে। অবৈধ স্ট্যান্ডে যানবাহন দাঁড় করানো, রাস্তার ওপর যাত্রী ওঠানামা এবং এলোমেলোভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা খুব কমই দেখা যায়।
হুমায়ুন রশীদ চত্বরের যানজট নিরসনে অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠানামা সম্পূর্ণ বন্ধ, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং নিয়মিত মনিটরিং জরুরি। একই সঙ্গে গণপরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট পয়েন্ট নির্ধারণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সিলেটের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই গুরুত্বপূর্ণ চত্বরকে যানজটমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এছাড়াও অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে সিলেট নগরীর হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উন্নয়ন কাজের জন্য গত ১০ জুন একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- ১২ জুলাই থেকে ঢাকাগামী সব যানবাহন হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পর্যন্ত একমুখীভাবে চলাচল করবে এবং সিলেটগামী যানবাহন চন্ডিপুল পয়েন্ট থেকে বামে মোড় নিয়ে বঙ্গবীর সড়ক হয়ে কদমতলী বাস টার্মিনালে প্রবেশ করবে। এ ছাড়া হুমায়ুন রশীদ চত্বর, চন্ডিপুল, বাবনা পয়েন্ট ও ক্বীন ব্রিজের দক্ষিণ পাড় থেকে কদমতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সড়কের উপর কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কিংবা অবৈধভাবে যানবাহন পার্কিং না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু প্রায় পুরো হুমায়ুন রশীদ চত্বর এলাকাই অবৈধ স্ট্যান্ড বানিয়ে রাখায় অমান্য হচ্ছে এসএমপি কমিশনারের নির্দেশনা। রাত-দিন লেগে থাকছে যানজট।
এছাড়া হুমায়ুন চত্বরের পুলিশ বক্সের সামনে ভুল পার্কিং-এর জন্য গাড়ি আটক করে মামলা দেওয়া হয়। তবে গাড়ি দাঁড় কারিয়ে যাত্রী তোলার ব্যাপারটা আমরা খতিয়ে দেখবো।
Design and developed by sylhetalltimenews.com