ধানের শীষ বিজয়ী হলে দেশ রক্ষা পাবে: তারেক রহমান

প্রকাশিত: ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০২৫

ধানের শীষ বিজয়ী হলে দেশ রক্ষা পাবে: তারেক রহমান

Manual5 Ad Code

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ বিজয়ী হলে দেশ রক্ষা পাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি’র আয়োজনে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনার কর্মসূচি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। যুবদল ও কৃষকদলের নেতারা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ধানের শীষকে জিতাতে হবে, এর কোনো বিকল্প নাই। ধানের শীষকে জেতানোর মাধ্যমে জনগণের যে পরিকল্পনা, জনগণের পক্ষের যে পরিকল্পনা-সেটিকে বাস্তবায়ন করতে হবে, এর কোনো বিকল্প নাই। ধানের শীষকে জেতানোর মাধ্যমে দেশকে রক্ষা করতে হবে। প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ এবং সবার আগে বাংলাদেশ। নো কমেপ্রামাইজ।

Manual1 Ad Code

অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনার দল, আপনার সামনে যে স্ট্রেইটকাট প্ল্যান উপস্থাপন করলো, দেখান তো আর কোনো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে আছে- এরকম প্ল্যানিং দিয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দল এরকম প্ল্যান দিতে পারে নাই, দেশের মানুষকে কোনো পরিকল্পনা দিতে পারে নাই যে, দেশকে আমরা কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। একমাত্র আপনার দল বিএনপি এই প্ল্যান দিয়েছে। কাজেই এখন আপনার বসে থাকার সময় নেই। আপনাকে যুদ্ধে নেমে পড়তে হবে। কি যুদ্ধ? মানুষের পক্ষে, মানুষের জন্য, দেশের পক্ষে

Manual6 Ad Code

তারেক রহমান আরও বলেন, দেশ গড়ার পরিকল্পনা শুধু পরিকল্পনার মধ্যে রাখলে হবে না। বাংলাদেশে বহু পরিকল্পনা হয়েছে, সেই পরিকল্পনা পরিকল্পনাতেই রয়ে গেছে। আমরা আমাদের প্ল্যানিংকে বাস্তবায়ন করতে চাই। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেমন আমরা আন্দোলন করেছি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই প্ল্যানিং বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা এই কাজটা শুরু করবো, পরবর্তী জেনারেশন সেটা কনটিনিউ করবে। এটার শেষ নাই।

দলের পরিকল্পনা ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে- এমন নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, দলের পরিকল্পনা মানুষের সামনে নিয়ে যেতে হবে, জনগণকে কনভিন্স করতে হবে, জনগণকে বুঝাতে হবে- এই কঠিন কাজটি করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নাই। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এই দেশকে প্রতিবার বিএনপি রক্ষা করেছে। ইতিহাস ঘাঁটুন তাহলে দেখবেন, প্রত্যেকটি বার রক্ষা করেছেন শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া। এখন শহীদ জিয়া এবং খালেদা জিয়ার দায়িত্ব আপনাদের কাঁধে এসে পড়েছে। এই দেশকে আপনাদের রক্ষা করতে হবে। প্রত্যেককে উঠে দাঁড়াতে হবে, ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে হবে, মানুষের কাছে যেতে হবে, দোরগোড়ায় যেতে হবে তাহলেই আমাদের পক্ষে সম্ভব।

ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, ফারমার্স কার্ড, পরিবেশ রক্ষা, বেকার সমস্যার সমাধান, শিক্ষার উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয়ে দলের অগ্রাধিকার পরিকল্পনাগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তার রূপরেখা যুবদল ও কৃষক দলের নেতাদের সামনে তুলে ধরেন তারেক রহমান। ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় বিএনপি’র নেতারা অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।

Manual6 Ad Code

গণ-অভ্যুত্থানেও সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝরেছে বিএনপি’র ঘরেই: ওদিকে গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তারেক রহমান লিখেছেন, ১৬টা বছর ধরে বাংলাদেশ যেন একটা কালো মেঘের নিচে চাপা পড়ে ছিল। কেউ সেই অন্ধকারকে খুব তীব্রভাবে টের পেয়েছে, কেউ চুপচাপ বয়ে বেড়িয়েছে। কিন্তু যাদের রাজনৈতিক অবস্থান তখনকার পতিত সরকারের বিপরীতে ছিল, তাদের জন্য এই অন্ধকার ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। রাতের বেলা দরজায় কড়া নাড়া, মিথ্যা মামলা, নির্যাতন, ভয়কে সংস্কৃতি বানিয়ে ফেলা, আর অসংখ্য পরিবার অপেক্ষা করেছে সেই প্রিয়জনদের জন্য, যারা আর কোনোদিন ঘরে ফিরে আসেনি। এই বোঝা বিএনপি’র চেয়ে বেশি আর কেউ বহন করেনি। বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, হেফাজতে মৃত্যু, মিথ্যা মামলা-সব জায়গায় বিএনপি’র নেতাকর্মীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝরেছে বিএনপি’র ঘরেই।
তিনি বলেন, কিন্তু অত্যাচারের শিকার শুধু বিএনপি ছিল না; ছাত্র, সাংবাদিক, লেখক, পথচারী, সাধারণ মানুষ-সবাই সেই ভয়ঙ্কর পরিবেশের ক্ষত বয়ে বেড়িয়েছে, ন্যূনতম মানবাধিকার হিসেবে বিবেচিত মর্যাদা, নিরাপত্তা, মত প্রকাশের অধিকারের মতো মৌলিক সব বিষয়গুলো ছিল হুমকির মুখে। এই বছরগুলোতে আমাকেও কথা বলার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। ২০১৫ সাল থেকে আমার কথা বলার অধিকার সম্পূর্ণভাবে কেড়ে নেয়া হয়। দেশের কোনো পত্রিকা, টিভি বা সোশ্যাল মিডিয়া যেন আমার কোনো বক্তব্য প্রকাশ না করে- এমন নির্দেশনা জারি ছিল। তবুও এই চাপিয়ে দেয়া নীরবতার মধ্যেও আমি অধিকার, গণতন্ত্র আর মানুষের ন্যায্য দাবির পক্ষে লড়াই চালিয়ে গেছি। কারণ সত্যের স্পিরিটকে আদেশ দিয়ে থামানো যায় না।

Manual4 Ad Code