অন্তরবর্তী সরকারের আমলে অপমানবোধ করছি

প্রকাশিত: ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০২৫

অন্তরবর্তী সরকারের আমলে অপমানবোধ করছি

Manual7 Ad Code

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়েই পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি। বলেন, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন।

Manual8 Ad Code

প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও তার এই ভূমিকা কেবল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। কেননা, নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতেই ন্যস্ত থাকে। তবে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট পদ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সংসদ ভেঙে দেয়ার পর প্রেসিডেন্টই ছিলেন দেশের শেষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ।
৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিনকে ২০২৩ সালে হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করে।
হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ঢাকার সরকারি বাসভবন থেকে গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন বলেন, আমি চলে যেতে আগ্রহী। আমি বেরিয়ে যেতে আগ্রহী। প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচন না হচ্ছে, আমাকে চালিয়ে যেতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী  প্রেসিডেন্ট পদে থাকার ফলেই আমি আমার অবস্থান ধরে রেখেছি।

Manual4 Ad Code

তিনি বলেন, ইউনূস তার সঙ্গে প্রায় সাত মাস ধরে দেখা করেননি। তার প্রেস বিভাগকেও সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানান- সাহাবুদ্দিন। সেপ্টেম্বরে সারা বিশ্বের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো থেকে প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতিগুলোও সরিয়ে ফেলা হয়।
সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বলেন, সকল কনস্যুলেট, দূতাবাস এবং হাইকমিশনে প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি ছিল। তা হঠাৎ করেই রাতারাতি সরিয়ে ফেলা হয়। তিনি বলেন, মানুষের কাছে একটি ভুল বার্তা যায়। তারা মনে করে সম্ভবত প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দেয়া হবে। আমি খুব অপমানিত বোধ করেছি। প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন বলেন, প্রতিকৃতিগুলো নিয়ে তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি লেখেন। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি  সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছেন। রয়টার্সের ভাষ্য, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া তীব্র আন্দোলনের পক্ষে দাঁড়ায় সেনাবাহিনী। যা হাসিনার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, সেনাপ্রধান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তার ক্ষমতা দখলের কোনো ইচ্ছা নেই। বাংলাদেশে সামরিক শাসনের ইতিহাস থাকলেও ওয়াকার-উজ-জামান গণতন্ত্রে ফিরতে চান। প্রেসিডেন্ট বলেন, যদিও প্রথমে কিছু শিক্ষার্থী তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেছে, তবে এখনও কোনো রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে তাকে চাপ দেয়নি।
পালিয়ে যাওয়ার পর শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান-  প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে তিনি স্বাধীন ছিলেন, তিনি কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।