ঢাকা ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫
আগামী ২৫শে ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তারেক রহমান এ কথা জানান। যুক্তরাজ্যের লন্ডনের দ্য সিটি প্যাভিলিয়ন হলে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমরা দেখেছি, স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে যখন নতুন দেশটি আমরা পেলাম। তখন মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল। এই দেশে গণতন্ত্রের চর্চা হবে, গণতন্ত্রের চর্চার মাধ্যমে ধীরে ধীরে দেশ ও জাতি এগিয়ে যাবে। হঠাৎ করে দেখেছি বাকশাল চলে আসলো। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে মানুষের অধিকার, ভোটের অধিকার সবকিছুর টুঁটিকে চেপে ধরা হলো। পরবর্তীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন জনগণের কাছ থেকে। আমরা দেখেছি আবার বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু হলো দেশে ধীরে ধীরে। মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেলো, সংবাদপত্রগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশিত হতে লাগলো। সংবাদপত্রগুলোও গঠনমূলক সমালোচনা শুরু করতে লাগলো সরকারের। জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হতে লাগলো সংবাদপত্রে, বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠান ও সেমিনারে।
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় দেখলাম দুর্ভিক্ষ অবস্থা থেকে কাটিয়ে, দেশ একটি উৎপাদনমুখী রাজনীতি শুরু করলো। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় খাদ্য উৎপাদন শুধু দ্বিগুণই হলো না। আমরা দেশ থেকে খাদ্য রপ্তানিও করেছিলাম, হতে পারে অল্প ছিল। কিন্তু করেছিল বাংলাদেশের মতো একটি দেশ উদ্বৃত্ত চাল। আমরা দেখেছি কীভাবে সেসময় গড়ে উঠেছিল মিল-কলকারখানা। যেখানে উৎপাদিত হতে লাগলো বিভিন্ন দ্রব্য, যেখানে আস্তে আস্তে মানুষের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা হতে লাগলো। তার ফলে মানুষের অর্থনৈতিক যে মেরুদণ্ড, সেই মেরুদণ্ড মজবুত হতে লাগলো। কিন্তু কী দেখলাম আমরা ১৯৮১ সালে? ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের বিরুদ্ধে থেমে ছিল না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হলো। হত্যা করার মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের গতি, গণতন্ত্রের চর্চা, মানুষের অর্থনীতির ভাগ্য উন্নয়নের যে চাকা, সেটিকে স্তব্ধ করে দেয়া হলো। তার পরের যুগ আপনারা দেখেছেন সামরিক শাসনের পরে স্বৈরাচারী এক সরকার ছিল দেশে। গণতন্ত্রের নামে প্রহসন আমরা দেখেছি।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৯১ সালে আবারো জনগণ-জনতার আন্দোলনের মুখে সেই স্বৈরাচারের পতন হলো। পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সাধারণ মানুষের সমর্থনের সরকার গঠন করলো। আমরা দেখেছি- দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সরকার বাংলাদেশের মানুষের দ্বারা নির্বাচিত হওয়ার পরে কীভাবে আবার ধীরে ধীরে দেশকে গড়ে তুলতে সক্ষম হলো। দেখেছি সেই সময় কীভাবে দেশে আবারো শিল্প-কলকারখানা স্থাপিত হলো। ১৯৯৬-এর সেই ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে এই যে পলাতক স্বৈরাচার যারা গত এক বছর আগে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে জনগণের আন্দোলনের মুখে- তারা যখন ’৯৬ সালে আসলো তখন সংসদে একদিন তাদেরই তৎকালীন যে শিল্পমন্ত্রী, তার নিজের বক্তব্য ছিল যে, ’৯১-’৯৬ সাল পর্যন্ত দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তখন দেশে ৮৪ হাজার শিল্প-কলকারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই সংখ্যাটা দিয়েই বোঝা যায়, দেশে সে সময় উন্নয়নের গতিধারা চালু হয়েছিল। ঠিক একইভাবে যেমন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়, দু’টি সেক্টর যেটি নিয়ে ’৭৫-এর পরে প্রতিটা সরকার গৌরব বোধ করেছে- এক, বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প। দুই, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। এটিও কিন্তু বিএনপি সরকারের করে যাওয়া, জিয়াউর রহমানের করে যাওয়া।
Design and developed by sylhetalltimenews.com