ঢাকা ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২৬
মৌলভীবাজারে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস আব্দুল মতিন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। এই ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নিহত আব্দুল মতিনের আপন ভাই আব্দুল মজিদ (৫০), আব্দুল আজিদ (৪৩), আব্দুল রুফ (৫৬), বোন আয়শা আক্তার রত্না (৩৭) এবং আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি বেগম (৪০)।
মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বুধবার বিকালে এতথ্য জানিয়েছেন।
থানা পুলিশ জানিয়েছে প্রাথমিক তদন্তে ভিকটিম আব্দুল মতিনের (৫৮) সঙ্গে তার ভাই-বোনদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে আদালতে আব্দুল মতিনের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই ভাই আব্দুল মজিদ তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
যেভাবে সংঘটিত হয় হত্যাকাণ্ড:
গত ২৮ জুন রবিবার সকালে আব্দুল মতিন আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা পরিকল্পনাকারীর দল তাকে অনুসরণ করে। পথিমধ্যে সুযোগ বুঝে তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। এরপর হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে সুন্দর মিয়ার পুকুরের দক্ষিণ পাশের ঢালের পাকা রাস্তার ওপর মরদেহ ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়। সন্ধ্যায় আব্দুল মতিন বাড়ি না ফেরায় তার স্ত্রী লাকি আক্তার শেফা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে বাড়ির অদূরেই স্বামীর হাত-পা বাঁধা এবং গলায় শার্ট পেঁচানো মরদেহ দেখতে পান। মরদেহের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) নোবেল চাকমা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের নেতৃত্বে সদর মডেল থানার একটি বিশেষ টিম তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল ৩০ জুন মঙ্গলবার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
Design and developed by sylhetalltimenews.com