ঢাকা ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০২৫
সবাইকে অবাক করে দিয়ে এবারের ‘মিস ইউনিভার্স’ নির্বাচিত হয়েছেন মেক্সিকোর সুন্দরী ফাতিমা বশ। তিনি মেক্সিকোর প্রথম প্রতিযোগী হিসেবে এই সাফল্য দেখালেন। অনেকেই সম্ভাবনার তালিকায়ও রাখেননি ফাতিমাকে। অবশেষে তার মাথায়ই উঠলো বিজয়ের মুকুট। গতকাল সকালে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক শহরে শুরু হয় ‘মিস ইউনিভার্স-২০২৫’র ফাইনাল পর্ব, যেখানে চূড়ান্ত পর্বে সেরার খেতাব জেতেন ফাতিমা বশ। এরপর থেকেই আলোচনায় নতুন এই মিস ইউনিভার্স। তাবাস্কো থেকে উঠে আসা এই সুন্দরী মঞ্চে আত্মবিশ্বাস, আভিজাত্য ও দৃঢ়তায় দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। তবে, আলোচনার বাইরেই ছিলেন তিনি। ফাতিমার পথচলাটি মোটেও সহজ ছিল না। ইতিহাস গড়া প্রথম জাতীয় জয় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের উত্তপ্ত বিতর্ক- তার যাত্রা যেন ছিল এক স্বপ্নের মতো। মেক্সিকোর তাবাস্কো অঙ্গরাজ্যের সান্তিয়াগো দে তেয়াপায় জন্ম ফাতিমার। তিনি মেক্সিকোতে ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। ইতালির মিলান ও যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্টেও থেকেছেন কিছুদিন। স্কুলজীবনে ডিসলেক্সিয়া ও এডিএইচডির কারণে বুলিংয়ের শিকার হওয়ার কথা তিনি খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছেন। ২০১৮ সালে তাবাস্কোতে ‘ফ্লোর ডি ওরো’ খেতাব জয়ের মধ্যদিয়ে শুরু হয় তার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার পথচলা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি ইতিহাস গড়েন তাবাস্কো থেকে প্রথম নারী হিসেবে ‘মিস ইউনিভার্স মেক্সিকো’ খেতাব জিতে। যদিও এরপর অনেক সমালোচনাও সহ্য করতে হয়েছে তাকে। তবে, সব প্রতিকূলতার মাঝেও নিজের আত্মমর্যাদা বজায় রাখেন ফাতিমা। ব্যাংককে হয়ে যাওয়া ‘মিস ইউনিভার্স-২০২৫’ স্যাশ অনুষ্ঠানে আবারো বিতর্কের কেন্দ্রে পড়েন ফাতিমা বশ। আয়োজকদের মধ্যে এক কর্মকর্তা নাওয়াত ইতসারাগ্রিসিল অভিযোগ তোলেন, ফাতিমা থাইল্যান্ডকে সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমে যথেষ্ট প্রচার করেননি। তিনি ফাতিমাকে ‘ডাম্বহেড’ (বোকা) বলেও কটূক্তি করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে কয়েকজন প্রতিযোগী অনুষ্ঠানস্থলও ত্যাগ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীকে ডাকতে হয়। পরে সাংবাদিকদের ফাতিমা বলেন, তিনি আমাকে ‘ডাম্ব’ বলেছেন। কারণ, তার সংস্থার সঙ্গে সমস্যা আছে, আর সেটি অন্যায়। কেউ আমাদের চুপ করাতে পারবে না। এ ঘটনার পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় ‘মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন’। সংস্থার সভাপতি রাউল রোচা নাওয়াত ইতসারাগ্রিসিলের আচরণকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করেন। সব বিতর্কের মাঝেও নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি ফাতিমা বশ। ‘মিস ইউনিভার্স’ প্ল্যাটফরমের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে সমাজসেবা ও মানবকল্যাণ। ফাতিমা এই ক্ষেত্রেও নিজের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছেন। ৯ বছর ধরে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন। ‘মিস ইউনিভার্স’ জয়ের পরও সেই কাজ আরও বড় পরিসরে করার আশা ব্যক্ত করেন ফাতিমা। তিনি বলেন, আমি মানবকল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে বড় পরিসরে কাজ করতে চাই। অসহায় নারীদের জন্যও কিছু করার ইচ্ছা রয়েছে।
Design and developed by sylhetalltimenews.com