ঢাকা ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:২০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬
চলচ্চিত্রে অনবদ্য অবদানের জন্য এ বছর একুশে পদক পাচ্ছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা। পদকটি তিনি উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত নির্মাতা জহির রায়হানকে। গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঘোষণা করা হয়েছে ২০২৬ সালের একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণীজনদের নামের তালিকা। এবার ৯ জন ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে এই পদক। পদকপ্রাপ্তির খবর শুনে ববিতা বলেন, দেরিতে হলেও একুশে পদক পেয়েছি, তাতেই আমি খুব খুশি। তিনি বলেন, অনেক ভালো লাগার বিষয় এটাই যে আমি জীবদ্দশায় একুশে পদক পেতে যাচ্ছি। জীবদ্দশায় এমন রাষ্ট্রীয় পদক পাওয়াটাও ভাগ্যের ব্যাপার।আমি রাষ্ট্রের প্রতি এবং যারা আমাকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করেছেন, তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তিনি আরো বলেন, অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা আমার ভক্ত-দর্শকের প্রতি। তারা সব সময়ই আমার কাজে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, ভালো-মন্দের খোঁজ নিয়েছেন। তাদের অনুপ্রেরণাতেই আমি আজকের ববিতা। জহির রায়হানের হাত ধরেই অভিনয়ে আসেন ববিতা। তাই একুশে পদকটি তাকে উৎসর্গ করেছেন ববিতা। তিনি বলেন, শ্রদ্ধেয় জহির রায়হানের হাত ধরেই আমার অভিনয়ে আসা, চলচ্চিত্রে আসা। তাই আমার একুশে পদকটি তাকেই শ্রদ্ধার সঙ্গে উৎসর্গ করছি। ১৯৭৫ সালে ‘বাদী থেকে বেগম’ সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য প্রথম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ববিতা।এরপর ১৯৭৬ সালে ‘নয়নমণি’ সিনেমার জন্য এবং ১৯৭৭ সালে ‘বসুন্ধরা’ সিনেমার জন্য তিনি একই সম্মাননা লাভ করেন। এরপর ‘রামের সুমতি’, ‘হাছন রাজা’, ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ (শ্রেষ্ঠ প্রযোজক হিসেবে), ‘কে আপন কে পর’ সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ২০১৬ সালে তিনি আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন। এছাড়াও দেশি-বিদেশি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। অস্কারজয়ী বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনিসংকেত’ সিনেমায় অনঙ্গ বউ চরিত্রে অভিনয় করে দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছেন ববিতা।
১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই বাগেরহাট জেলায় ববিতার জন্ম। তার আসল নাম ফরিদা আক্তার পপি। জহির রায়হানের ‘সংসার’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে ১৯৬৮ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ববিতার। এখানে তিনি রাজ্জাক-সুচন্দার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। পরে ফরিদা আক্তার পপি থেকে ‘ববিতা’ হয় ওঠেন জহির রায়হানের উর্দু সিনেমা ‘জ্বলতে সুরুজ কি নিচে’র মাধ্যমে। নায়িকা হিসাবে বাংলায় তার প্রথম সিনেমা ‘শেষ পর্যন্ত’। এটি মুক্তি পায় ১৯৬৯ সালের ১৪ আগস্ট, যেদিন ববিতার মা মারা যান। এতে তার নায়ক ছিলেন রাজ্জাক। আলোচিত সিনেমা ‘টাকা আনা পাই’ ববিতাকে চলচ্চিত্রের শক্ত আসন দিলেও তার জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিনেমা বলা হয় সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’কে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ২৫০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেন ববিতা। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ‘অশনি সংকেত’, ‘নিশান’, ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘লাভ ইন সিঙ্গাপুর’, ‘মায়ের জন্য পাগল’, ‘টাকা আনা পাই’, ‘স্বরলিপি’, ‘তিনকন্যা’, ‘শ্বশুরবাড়ি’, ‘মিস লঙ্কা’, ‘জীবন সংসার’, ‘লাইলি মজনু,’ ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘লাঠিয়াল’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’প্রভৃতি।
Design and developed by sylhetalltimenews.com