ফটো সাংবাদিকতায় ৩৮ এ দুলাল হোসেন

প্রকাশিত: ১১:৪৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২৫

ফটো সাংবাদিকতায় ৩৮ এ দুলাল হোসেন

রেজওয়ান আহমদ:
‎সিলেটের সিনিয়র ফটো সাংবাদিকদের মধ্যে একজন হলেন মোঃ দুলাল হোসেন। যিনি ১৯৮৭ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে সাংবাদিকতা পেশা শুরু করেন। হাটি হাটি পা পা করে ১৫ বছরের দুলাল হোসেন ৫৪ বছরে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে ফটো সাংবাদিকতায় ৩৭ বছর পেরিয়ে ৩৮ এ পা দিলেন তিনি, সিলেটের প্রবীণ ফটো সাংবাদিক আতাউর রহমান আতার হাত ধরে ১৯৮৭ সালে সুমি ফটো স্টুডিও থেকে ফটো সাংবাদিকতা শুরু করেন দুলাল হোসেন। ১৫ বছরের দুলাল হোসেন ৫৪ বছরেও ক্যামেরা নিয়ে ছুটে চলেছেন দেশ, সমাজ ও মানুষের কথা ছবির মাধ্যমে পত্রিকার পাতায় তুলে ধরতে। যার চিন্তা চেতনা হচ্ছে ফটো সাংবাদিকতার মাধ্যমে অসহায় মানুষের কথা জাতির কাছে তুলে ধরা। ৫৪ বছর বয়সেও থেমে নেই দুলাল হোসেন। সকাল থেকে ক্যামেরা নিয়ে ছুটে চলেন তিনি, নগরী, শহর সহ যেখানেই ঘটনা দুর্ঘটনা সেখানে ক্যামেরা নিয়ে ছুটে যান তিনি। সেই খবরগুলো ছবির মাধ্যমে পত্রিকার পাতায় প্রকাশ করে জাতির সামনে তুলে ধরেন। নিজের খবরের চেয়ে অন্যের কষ্টের খবর প্রকাশ করে নিজের মধ্যে যেন শান্তি পান তিনি। এই দীর্ঘ সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত থেকে দেশ, সমাজ ও মানুষের কথা তুলে ধরেছেন কিন্তু নিজের কথা তুলে ধরতে পারেন নি। সাংবাদিকতা পেশা শুরুর পর থেকে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছেন তারপরেও থেমে যাননি দুলাল হোসেন। সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি, শত কষ্টের মধ্যে থাকলেও নিজের আদর্শকে অন্যায়ের কাছে বিক্রি করেননি। যার ফলে বিভিন্ন সংগঠন থেকে সম্মাননা পেয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে ১৯৯৮ সালে ফটো সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য রোটারী ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রালের ভোকেশনাল এ্যাওয়ার্ড, ১৯৯৬ সালে বিভাগ আন্দোলনে অবদানের জন্য সম্মাননা ক্রেস্ট, ফটো সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য সিলেট কল্যাণ সংস্থার কর্তৃক ক্রেস্ট, ২০১৯ সালে সিলেটের ১৬টি রোটারী ক্লাবের পক্ষ থেকে সম্মাননা পান তিনি। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন থেকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
দুলাল হোসেন বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন। তার মধ্যে সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্য, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সদস্য, দক্ষিন সুরমা প্রেসক্লাবের সদস্য, কেন্দ্রী মুসলিম সাহিত্য সংসদ সিলেটের জীবন সদস্য এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের জীবন সদস্য পদে আছেন।
‎এই মহতী পেশায় তিনি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন অফুরন্ত। দুলাল ভাই এর সাথে আমার পরিচয় হয় ১৯৯৮ সালে জিন্দাবাজার ইদ্রিস মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় প্রবীণ ফটো সাংবাদিক আতাউর রহমান আতার প্রতিষ্ঠিত সুমি স্টুডিও থেকে। আমি তখন দৈনিক যুগভেরীতে কাজ করি, সিলেটে যত রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের অনুষ্ঠান হতো সেই সব অনুষ্ঠানের ছবি এই সুমি স্টুডিও থেকে দৈনিক পত্রিকায় প্রেরণ করা হতো। সেই সুবাদে আমি মাঝে মধ্যে যেতাম। গিয়ে দেখতাম দুলাল ভাই একদিকে ছবি নিয়ে কাজ করছেন আর অন্যদিকে মুখের মধ্যে পান চিবোচ্ছেন। এই পান খাওয়ার জন্য পরিচিতি আছে দুলাল হোসেনের, অনেকেই আছেন দুলাল হোসেনের নাম ভুলে গেছেন কিন্তু পান খাওয়ার কথা ভুলে যাননি। বলেন একজন ফটো সাংবাদিক আছেন যিনি সব সময় মুখে পান থাকে উনার নাম যেন কি এই কথা শুনে অন্যজন বলেন অহ আপনি দুলাল ভাইয়ের কথা বলছেন। এই হল দুলাল হোসেনের পরিচিতি। তিনি সবসময় হাসি দিয়ে কথা বলেন আর মুখের মধ্যে তো পান আছে। দুলাল হোসেন একজন সাদা মনের মানুষ, যে কেউ তার সাথে মিশতে পারে। ছোট বড় সবার সাথে তিনি হাসি দিয়ে কথা বলেন। নিজে যেমন সব সময় হাসিখুশি থাকেন তেমনি অন্যকেও হাসিখুশি রাখেন।
‎দুলাল হোসেন ১৯৭১ সালে সিলেটের জালালপুরস্থ নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মৃত আছাব মিয়া ও মায়ের নাম মৃত সিতারা বেগম এবং স্ত্রী শাহিদা বেগম। পারিবারিক জীবনে দুই ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে সুখে আছেন তিনি। দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মো. বেলাল হোসেন রিপন ইউনাইটেড ইন্টান্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে প্রভাষক পদে কর্মরত আছেন এবং ছোট ছেলে মো. দেলওয়ার হোসেন শিপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আই.এস.আর.টি বিভাগে মাস্টার্স-এ অধ্যায়নরত রয়েছেন। বর্তমানে দুলাল হোসেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১২নং ওয়ার্ডের শেখঘাট এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।
‎দুলাল হোসেন সিলেটের বিভিন্ন দৈনিক ও জাতীয় পত্রিকায় কাজ করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে দৈনিক সিলেটের ডাক, দৈনিক কাজিরবাজার ও জাতীয় দৈনিক খবর। বর্তমানে তিনি দৈনিক সিলেট বাণীতে কর্মরত আছেন। দীর্ঘ এই পথ চলায় অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে ছুটে চলেছেন নিজের গতিতে, পিছনে তাকানোর সময় নেই। যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে দেশ, সমাজ ও মানুষের কথা বলে যাবেন- এটাই যেন তার অঙ্গীকার।