কেন আইনি পথে হাঁটলেন টেইলর সুইফট

প্রকাশিত: ৩:২৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০২৬

কেন আইনি পথে হাঁটলেন টেইলর সুইফট

Manual2 Ad Code

এআই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির ফলে তারকাদের কণ্ঠস্বর ও চেহারার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের পরিচয় সুরক্ষায় নতুন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন পপ তারকা টেইলর সুইফট।

Manual5 Ad Code

সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিসে তিনটি আবেদন জমা দিয়েছেন, যেখানে নিজের কণ্ঠস্বর ও নির্দিষ্ট একটি ভিজ্যুয়াল অবয়বকে ট্রেডমার্ক করার চেষ্টা করছেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ভ্যারাইটি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ এপ্রিল তার প্রতিষ্ঠান ‘টিএএস রাইটস ম্যানেজমেন্ট’ এই আবেদনগুলো করে। এর মধ্যে দুটি আবেদন তার কণ্ঠস্বর সম্পর্কিত—‘হেই, ইটস টেইলর সুইফট’ এবং ‘হেই, ইটস টেইলর’ বাক্যাংশকে ঘিরে। তৃতীয় আবেদনটি একটি ভিজ্যুয়াল ট্রেডমার্ক, যেখানে তাকে গোলাপি গিটার হাতে ঝলমলে পোশাকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

Manual5 Ad Code

আইনজীবী জশ গারবেন প্রথম বিষয়টি সামনে আনেন। তার মতে, এআই প্রযুক্তির কারণে বিনোদন জগতের তারকারা ক্রমেই চিন্তিত, কারণ তাদের অনুমতি ছাড়া কণ্ঠ ও চেহারা ব্যবহার করা হচ্ছে।

Manual3 Ad Code

সাধারণত ট্রেডমার্ক আইন কোনো ব্যক্তির সম্পূর্ণ চেহারা বা কণ্ঠ রক্ষার জন্য তৈরি হয়নি। তবে এই নতুন কৌশলের মাধ্যমে প্রচলিত ‘রাইট অব পাবলিসিটি’ আইনের পাশাপাশি অতিরিক্ত সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব হতে পারে—বিশেষ করে এআই-ভিত্তিক অপব্যবহারের বিরুদ্ধে।

Manual2 Ad Code

এর আগেও বিভিন্ন এআই কনটেন্টে অনুমতি ছাড়া সুইফটের চেহারা ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি মেটার এআই চ্যাটবটেও তার অননুমোদিত ব্যবহার দেখা গেছে এবং অনলাইনে তার নামে ভুয়া ও আপত্তিকর ছবিও ছড়িয়েছে। ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেয়ার করা কিছু এআই ছবিতে ভুলভাবে দেখানো হয়েছিল যে সুইফট তাকে সমর্থন করছেন।

এর আগে অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনাঘেও একই ধরনের ট্রেডমার্ক সুরক্ষা পেয়েছেন। ২০২৫ সালে তার জন্য একাধিক ট্রেডমার্ক অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিস। তার আইনজীবীদের মতে, এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে অনুমতি ছাড়া কারও কণ্ঠ বা চেহারা ব্যবহার করে তৈরি এআই কনটেন্টের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।

বর্তমানে নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যে ‘রাইট অব পাবলিসিটি’ আইন রয়েছে, যা কারও ছবি বা পরিচয়ের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। তবে ট্রেডমার্ক আইনের আওতায় মামলা ফেডারেল আদালতে করা যায়, যা সারা দেশে প্রযোজ্য—ফলে এটি আরও শক্তিশালী আইনি প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করতে পারে।