বিশ্বনাথে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির পোনা মাছ

প্রকাশিত: ১০:৫৯ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২৬

বিশ্বনাথে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির পোনা মাছ

Manual7 Ad Code

সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনিক তৎপরতা উপেক্ষা করে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় অবাধে চলছে দেশীয় প্রজাতির রেণু ও পোনা মাছ নিধন। প্রজনন মৌসুমে নদ-নদী, খাল-বিল ও বিভিন্ন জলাশয়ে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ থাকলেও এক শ্রেণির অসাধু মৎস্য শিকারি ও ব্যবসায়ী সেই নিয়ম মানছেন না। ফলে স্থানীয় জলজ সম্পদ ও দেশীয় মাছের প্রজনন নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

Manual5 Ad Code

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন পৌর শহরের মাছ বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নানা প্রজাতির পোনা মাছ। শুধু বাজারেই নয়, জনবহুল স্থান ও সড়কের পাশেও এসব মাছ বিক্রি করতে দেখা যায়। এতে দেশীয় মাছের স্বাভাবিক বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে নতুন পানিতে খাল-বিল ও নদী-নালায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা জন্ম নেয়। কিন্তু কিছু মৎস্য শিকারি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (রিং জাল), কারেন্ট জাল, সুতি জাল ও বেড়জাল ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ পোনা মাছ আহরণ করছেন। পরে এসব মাছ স্থানীয় বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে।

Manual4 Ad Code

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে পোনা মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। বিক্রি হচ্ছে কাতলা, মৃগেল, কালিবাউস, পাবদা, আইড়, ঘনিয়াসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা। এছাড়া দেশীয় কৈ, টাকি ও শোল মাছের পোনার চাহিদা তুলনামূলক বেশি। ওজনভেদে এসব পোনা মাছ ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা কিংবা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিক্রেতা জানান, নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনেকেই পোনা মাছ ধরছেন। কেউ নিজেদের খাওয়ার জন্য সংগ্রহ করেন, আবার কেউ বাজারে বিক্রি করেন। পোনা মাছের ভালো দাম পাওয়া যায় বলে অনেকেই জীবিকার তাগিদে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

Manual1 Ad Code

এদিকে পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে পোনা মাছ বিক্রি এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

Manual4 Ad Code

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন কুমার ধর বলেন, প্রজনন মৌসুমে সব ধরনের পোনা মাছ ও ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। মাছের অবাধ প্রজনন নিশ্চিত করতে মাইকিং, জেলেদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাজারে নিয়মিত অভিযানও চালানো হচ্ছে। এরপরও কেউ মৎস্য আইন লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা, কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।