চোখ রাঙাচ্ছে শীতকালীন রোগ, এখনই নিতে হবে প্রস্তুতি

প্রকাশিত: ৮:০২ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০২৫

চোখ রাঙাচ্ছে শীতকালীন রোগ, এখনই নিতে হবে প্রস্তুতি

Manual8 Ad Code

সিলেট অলটাইম নিউজ :কমছে তাপমাত্রা, প্রকৃতিতে বিরাজ করছে শীতের আমেজ। একদিকে যেমন শীতের আগমন ঘটছে, আরেকদিকে তেমনি শঙ্কা বাড়ছে শীতকালীন রোগ নিয়ে। এরই মধ্যে হাসপাতালগুলোতে শীতকালীন রোগ নিয়ে ভিড় করছেন রোগীরা। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে শীতকালীন নানা রোগের প্রকোপ বেড়েছে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে সরেজমিনে দেখা যায়, শীতের আগমনের আগেই মৌসুমজনিত রোগীর চাপ চোখে পড়ার মতো বেড়েছে।চিকিৎসকরা বলছেন, গরম থেকে শীতের আগমন হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনের এ সময়টিকে বলা হয় ‘ক্রিটিক্যাল পিরিয়ড’। এ সময়ে সামান্য অসতর্কতা বড় ধরনের শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সে কারণে এখনই শীতের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

তথ্য অনুযায়ী, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা এবং সাধারণ সর্দি-কাশির রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

Manual6 Ad Code

চিকিৎসকরা বলছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এই সময় খুবই ‘সংবেদনশীল’ বা ‘ক্রিটিক্যাল’। তাই একটু সচেতন থাকলে অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

Manual6 Ad Code

সকালে ঠাণ্ডা, দুপুরে গরম, আবার রাতে ঠাণ্ডা এমন আবহাওয়ায় সতর্কভাবে চলতে হয়। হঠাৎ গরম থেকে শীতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। সিভিয়ার নিউমোনিয়া হলে মৃত্যু ঝুঁকিও বেশি, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে।

শীতে সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। ব্যায়াম করা, খোলা বাতাসে থাকা এবং গাছ লাগানোর মাধ্যমে শরীরে অক্সিজেন গ্রহণ বাড়ানো উচিত, এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

Manual4 Ad Code

শিশুদের পোশাকের ক্ষেত্রে সকালে গরম জামা পরানো, আবার দুপুরে খেলাধুলার সময় হালকা-পাতলা পোশাক পরানো দরকার। ঠাণ্ডা লাগলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিজের মতো করে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বিপজ্জনক, চিকিৎসক পরামর্শ দিলে তবেই খাওয়া উচিত। সবমিলিয়ে এখন থেকেই শীতের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলা প্রয়োজন।

খাদ্যাভ্যাসে হাই এনার্জি ডায়েট নেওয়া উচিত। প্রোটিন ও ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার। ভিটামিন সি জাতীয় খাবার (লেবু, পেয়ারা, কমলা ইত্যাদি) খেলে উপকার পাওয়া যায়। নিয়মিত জামাকাপড় পরিষ্কার রাখা, হালকা কুসুম গরম পানি পান করা, ঠাণ্ডা না লাগার ব্যবস্থা নেওয়া ও গরম পোশাক পরা জরুরি। যাদের কিডনি বা লিভার ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে, অথবা যারা জটিল রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য শীতের ঠাণ্ডা বিশেষভাবে ক্ষতিকর, তাদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।

Manual1 Ad Code

চিকিৎসকরা বলছেন, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে সামান্য সতর্কতা ও সচেতনতা শীতকালীন নানা রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাদ্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই এখন সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়া, টিকাদান ও ঘরের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।

দেশে নিউমোনিয়ার সংক্রমণ কোন জীবাণুর মাধ্যমে ঘটছে, তার অর্ধেক কারণ এখনো অজানা। ফলে রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা-ব্যবস্থায় আরও গবেষণা ও মনোযোগ প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের এই সময়ে শিশুকে উষ্ণ রাখার পাশাপাশি বুকের দুধ খাওয়ানো, নিয়মিত হাত ধোয়া, ধোঁয়া-মুক্ত পরিবেশে রাখা এবং টিকাদান নিশ্চিত করলেই অনেকাংশে নিউমোনিয়া প্রতিরোধ সম্ভব।

 

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ