ঢাকা ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০২৫
নিউজ ডেস্ক, :রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তার হার্ট ও ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পড়েছে। সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে নিবিড়ভাবে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এসব তথ্য জানিয়েছেন তার মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা। বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, ম্যাডাম হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান বলে জানান তিনি।
রোববার রাতে ৮১ বছর বয়সী বিএনপি চেয়ারপারসনকে গুলশানের বাসা থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড বৈঠকে বসে বেশ কিছু টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নেন। রোববার মধ্যরাতে হাসপাতালের সামনে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আপডেট গণমাধ্যমকে অবহিত করেন তার মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী। এসময় তিনি জানান, ম্যাডামের হার্ট ও ফুসফুসে ইনফেকশন হয়েছে। এভারকেয়ার হাসপাতালের এই চিকিৎসক বলেন, গত কয়েক মাস ধরেই উনি খুব ঘন ঘন আক্রান্ত হচ্ছিলেন। আজকে আমরা যে কারণে এখানে ভর্তি করিয়েছি- সেটা হচ্ছে যে, উনার কতোগুলো সমস্যা একসঙ্গে দেখা দিয়েছে। সেটা হচ্ছে, উনার চেস্টে ইনফেকশন হয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু উনার হার্টের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। উনার হার্টে পারমানেন্ট পেসমেকার আছে এবং হার্টে উনার রিং পরানো হয়েছিল, তারপরেও উনার মাইট্রোস্টেনোসিস নামে একটা কন্ডিশন আছে- সেজন্য চেস্টে হওয়াতে উনার একসঙ্গে হার্ট এবং ফুসফুস দুটোই এ্যাট এ টাইম আক্রান্ত হওয়াতে উনার খুব রেসপিরেটরি ডিস্ট্রেস হচ্ছিল। সেজন্য এখানে আমরা খুব দ্রুত ওনাকে নিয়ে এসেছি।
খালেদা জিয়া ২৪ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন জানিয়ে এফএম সিদ্দিকী বলেন, হাসপাতালে আনার পর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত যে পরীক্ষাগুলো করা দরকার তা করেছি। আমরা প্রাথমিক যে রিপোর্ট পেয়েছি, সে অনুযায়ী মেডিকেল বোর্ডের সবাই বসে আমরা প্রাথমিকভাবে উনাকে এন্টিবায়োটিক দিয়েছি, উনাকে যেভাবে প্রাথমিক দ্রুত এবং জরুরি চিকিৎসা দেয়ার দরকার হয়, সেটা দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আশা করছি যে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরও কিছু রিপোর্ট আসবে। উনি আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন এবং আমরা মনে করছি যে, নেক্সট ১২ ঘণ্টার উনার পরবর্তী পরিস্থিতি কী হয় সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তে উনি আমাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা এবং আমরা যেটাকে খুব ভালোভাবে বলি, খুব ইনটেন্সিভভাবে আমাদের মনিটরিংয়ের মধ্যে আছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমরা ডেফিনেটলি সুচিকিৎসার ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে নিবিড়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত কোনো বিষয় আমরা মনে করছি না। ডা. জাহিদ জানান, গতকাল ভোর রাত থেকে লন্ডন থেকে তারেক রহমান ও উনার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান সর্বাক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। এ ছাড়া ম্যাডামের ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শর্মিলা রহমান এখানেই আছেন, উনাদের আত্মীয়-স্বজনরা ম্যাডামের চিকিৎসার ব্যাপারে সবসময় সহযোগিতা ও খোঁজখবর রাখছেন।
এদিকে এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধায়নে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। হাসপাতালে নেয়ার পরপর অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে মেডিকেল বোর্ড বৈঠকে বসে। এই বৈঠকে অধ্যাপক এফএস সিদ্দিকী, ডা. জাফর ইকবাল, ডা. জিয়াউল হক, ডা. মামুন আহমেদ, অব. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইফুল ইসলাম এবং লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি ডা. জুবাইদা রহমান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জনহোপকিংস হসপিটালের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশ নেন। উল্লেখ্য, ৮১ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।
Design and developed by sylhetalltimenews.com