‘আর্মি ম্যানেজ করার দায়িত্ব আমার’ভিডিওসহ

প্রকাশিত: ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২৫

‘আর্মি ম্যানেজ করার দায়িত্ব আমার’ভিডিওসহ

নিউজ ডেস্ক :: যার বাড়ি থেকে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে আগ্নেয়াস্ত্র, বেআইনী অস্ত্র রাখা, প্রভাব খাটিয়ে নিজের কু-কর্মের সঙ্গীদের নিয়ে অন্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জবরদখলসহ যার বিরুদ্ধে থানায় কমপক্ষে ৩টি মামলা রয়েছে, যে কিনা বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের প্রত্যক্ষ দোসর ছিল, যার পরিচিতি স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি হিসেবে, সেই চিহ্নিত অপরাধী এখন ‘সেনাবাহিনীর স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে’ ম্যানেজ করার মতো দুঃসাহস দেখিয়ে বেড়াচ্ছে? ওই দুঃসাহসী ব্যক্তিটি হলেন সুনামগঞ্জের ছাতক থানার জাউয়াবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি আলমগীর হোসাইন।

 

অতিসম্প্রতি ছাতক থানার জাউয়াবাজার সংলগ্ন আবিদপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত গাঁজা-মদসহ একটি মাদক সেবন ও জুয়ার আখড়া থেকে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দর্পভরে তাকে বলতে দেখা গেছে, ‘আর্মিসহ সকল আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আমি ম্যানেজ করবো, তোমরা কোন চিন্তা করো না, তোমরা তোমাদের কাজকর্ম (জুয়া খেলা, মাদকসেবন আর অর্ধনগ্ন নৃত্যসহ সকল কুকর্ম) চালিয়ে যাও।’ এরকম দু’টি ভিডিও ফুটেজ এ প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। অথচ ছাতক থানার পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী এই অপরাধীকে গ্রেফতারের জন্য হণ্যে হয়ে খোঁজে বেড়াচ্ছে।
স্থানীয় তথ্যসুত্র জানিয়েছে, গত ২ জুলাই বুধবার গভীর রাতে সেনাবাহিনী এক সাঁড়াশী অভিযান চালিয়ে জাউয়া কোনাপাড়ার বাসিন্দা, চিহ্নিত সন্ত্রাসী আলমগীর হোসাইনের বাড়ি থেকে দু’টি দেশী পাইপগান ও দু’টি বিদেশী চাবুক উদ্ধার করে। সেনাবাহিনীর অভিযানের ঘটনা টের পেয়ে অভিযুক্ত আলমগীর হোসাইন বাড়ির পিছন দিকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে আলমগীরের সাঙ্গপাঙ্গরাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সটকে পড়ে। আলমগীর হোসাইন স্থানীয় জাউয়া কোনাপাড়া গ্রামের মৃত আরশাদ আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে ছাতক থানায় কমপক্ষে ৩টি মামলা রয়েছে বলে থানা সুত্র জানিয়েছে। ৩ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে সেনাবাহিনী উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো জিডি এন্ট্রির মাধ্যমে জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে জমা দিয়েছে। আলমগীর হোসাইনের বাড়ি ছাতক থানার অন্তর্গত জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে মাত্র ৫শ’ গজ দূরে থাকলেও রহস্যজনক কারণে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার বা বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত আলমগীর হোসাইন ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশের উদাসীনতায় এলাকাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত আলমগীর হোসাইন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আপন চাচাতো ভাইদের দোকানকোটা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জবরদখলের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার এজাহারভূক্ত আসামী। তদন্ত শেষে শিগগিরই চার্জশিট জমা দিচ্ছে বলে পুলিশ সুত্র জানিয়েছে। এই মামলার ব্যাপারে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসাইনকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীকে ম্যানেজ করে নাকি তিনি দোকানকোটার দখলদারিত্ব বহাল রেখেছেন। অথচ গত বছরের ৫ আগস্ট গণ অভ্যূত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে উপরোক্ত আলমগীর হোসেন ও সহযোগী অপরাধীদের দীর্ঘদিন এলাকায় আর দেখা যায়নি।
কিন্তু সম্প্রতি তিন তিনটি মামলা থাকা স্বত্বেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আলমগীর হোসাইন ও তার সহযোগীরা। শুধু তাই নয়, অত্র এলাকায় অনুষ্ঠিত প্রত্যেকটি মদ-গাঁজা সেবন ও জুয়ার আসরে বুক ফুলিয়ে শুধু অংশ নিচ্ছেন না তারা, বরং প্রকাশ্যে পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। দেশের বাইরে থেকে চোরাচালানীর মাধ্যমে মদসহ নানা আবগারী পণ্য, তীর জুয়ায় মদদ দেয়া, যত্রতত্র নির্বিঘ্নে জুয়ার আসর বসানোসহ বিভিন্ন রকমের অপকর্মে আলমগীর ও তার সহযোগীরা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। কেউ কোন প্রশ্ন করলে তিনি সেনাবাহিনীর ভয় দেখাচ্ছেন। বলছেন, ‘স্থানীয় আর্মির সাথে আমার হটলাইন আছে। কোন অসুবিধা নেই। সকল অপকর্ম আমার জন্য জায়েজ(!)। কুকর্মে অংশগ্রহণকারীদের আশ্বাস দিচ্ছেন, ‘তোমরা সকল অপকর্ম চালিয়ে যাও, কিচ্ছু হবে না। আর্মি-র্যা ব-পুলিশ এসব আমি ম্যানেজ করবো।’ বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের মতো তার কথায় অপরাধীরাও সায় পেয়ে নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে নানা অপকর্ম। কলুষিত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। বিপথগামী হচ্ছে তরুণসমাজ।
এলাকাবাসীর জিজ্ঞাসা, ফ্যাসিস্টের দোসর এসব প্রভাবশালী অপরাধীদের কবে আইনের আওতায় নেয়া হবে? আর কবে শান্তি ফিরে আসবে এলাকায়? কর্তৃপক্ষ কী একটু ভেবে দেখবেন?

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ