‘সীমান্তে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইন করা হচ্ছে’- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রকাশিত: ৭:২১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০২৫

‘সীমান্তে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইন করা হচ্ছে’- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Manual5 Ad Code

ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে ‘বাড়াবাড়ি’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Manual6 Ad Code

বিএসএফের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার মতো ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়।’

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) কোচবিহারে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে মমতা বলেন, ‘ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হচ্ছে। আমি রাজ্য পুলিশকে বলব, ভয় পাবেন না। সক্রিয় হন। নাকা চেকিং বাড়াতে হবে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সীমান্ত জেলার বাসিন্দারা নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

মমতা বলেন, ‘কেউ বাংলা বললেই বাংলাদেশি হয়ে যায় না। বাংলাদেশ একটি দেশ, পশ্চিমবঙ্গ একটি রাজ্য। একই ভাষায় কথা বললেই নাগরিকত্ব বদলে যায় না।’

Manual8 Ad Code

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘উত্তর প্রদেশে অনেকে উর্দু বলেন, পাকিস্তানেও উর্দু ভাষা ব্যবহৃত হয়; তাতে কেউ পাকিস্তানি হয়ে যান না। একইভাবে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশেই পাঞ্জাব রয়েছে, উভয় অঞ্চলের মানুষই পাঞ্জাবি বলেন- তবুও তাদের পরিচয়ে ভিন্নতা থাকে ‘

বৈঠকে মমতা অভিযোগ করেন, ‘রাজ্যের বাসিন্দাদের হয়রানি করা হচ্ছে।’

তিনি রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দেন, অন্য রাজ্যের কোনো সংস্থা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে পশ্চিমবঙ্গে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না।

নাগরিক তালিকা সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক মানুষের নাম সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। বাইরে বিয়ে করা ব্যক্তি, পরিযায়ী শ্রমিকসহ বহু মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। এসময় সব বিভাগকে বুথ–লেভেল অফিসারদের (বিএলও) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।

মমতা জানান, শুধু পশ্চিমবঙ্গেই এসআইআর চলাকালে তিনজন বিএলওসহ ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যান্য রাজ্যেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তার অভিযোগ, ‘আগে এসআইআর শেষ হতে দুই বছর লাগত। এখন দুই মাসে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব? তারা যা খুশি তাই করছে।’

Manual4 Ad Code

পুলিশি টহল কমে যাওয়ার সমালোচনা করে মমতা বলেন, ‘আগে একটি পুলিশ ভ্যান দিনে তিন–চার দফায় টহল দিত, এখন তা তেমন দেখা যায় না। তিনি দিন–রাত টহল জোরদারের নির্দেশ দেন।’

Manual6 Ad Code

লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’ ইস্যুতে বিজেপির সমালোচনা করে মমতা বলেন, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে উল্লেখ করায় তাকে উদ্দেশ্য করে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘তারা কি বাংলার ইতিহাস জানে? নেতাজি, গান্ধীজি, রামমোহন- কাউকেই তারা মানে না।”

সীমান্ত নিরাপত্তা, নাগরিক তালিকা সংশোধন এবং রাজনৈতিক বিতর্ককে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীর এসব মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।