ঢাকা ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:১০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির তিন দিনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এ কর্মশালায় যেসব প্রার্থীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাদের প্রার্থিতা চূড়ান্তের দিকে এগোচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিপরীতে যেসব আসনের প্রার্থীদের কর্মশালায় ডাকা হয়নি, সেসব আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনাও দেখা দিচ্ছে। এর ফলে কয়েকটি সংসদীয় আসনে উল্লেখযোগ্য রদবদলের আভাস মিলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
দলীয় একটি সূত্র জানায়, কর্মশালার প্রথম দিনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে শুরু করে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দ্বিতীয় দিনে বরিশাল, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল শনিবার ফরিদপুর, সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বিভাগের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে কর্মশালার শেষ দিন সম্পন্ন হয়। এসব সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট বিএনপির একটি সূত্র জানায়, কর্মশালায় সিলেট-১ আসনের প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সিলেট-২ আসনের প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী এম এ মালিক, সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী এবং সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাদের মধ্যে কয়েকজন শনিবার ভোরে বিমানে ঢাকায় যান। আর এম এ মালিক যুক্তরাজ্য থেকে শনিবার ঢাকায় এসে কর্মশালায় যোগ দেন।
সিলেট বিএনপির আরেকটি সূত্র জানায়, সিলেট-৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে কাউকে কর্মশালায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এ আসনটি বিএনপি তার শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে ছেড়ে দিতে পারে—এমন আলোচনা রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, কর্মশালায় অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীদের আগেই আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ওই চিঠিতে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য ও তালিকা সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়। এর মধ্যে প্রতিটি সংসদীয় আসনের জন্য মনোনীত একজন ইলেকশন এজেন্টের নাম এবং পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দিতে সক্ষম এমন দু’জন ব্যক্তির তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকার জন্য প্রার্থীর মনোনীত একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারের তথ্যও জমা দিতে বলা হয়।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মশালায় যেসব আসনের প্রার্থীদের ডাকা হয়নি, সেখানে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। একই সঙ্গে শরিক দলগুলোর জন্য আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হতে পারে।
বিএনপি এর আগে গত ৩ নভেম্বর প্রথম দফায় ২৩৬টি আসনে এবং ৪ ডিসেম্বর আরও ৩৬টি আসনে প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করে। এতে মোট ২৭২টি সংসদীয় আসনে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়।
গত বুধবার থেকে ধারাবাহিকভাবে তিন দিন ধরে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রার্থীদের উদ্দেশে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। শনিবার ছিল এই কর্মশালার শেষ দিন।
কর্মশালা থেকে নির্বাচনি প্রস্তুতি জোরদার করতে প্রার্থীদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে নির্বাচনি এলাকার কেন্দ্র ও আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনা, ভোটারদের কাছে তথ্য পৌঁছানো এবং প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনার কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্ব ভোটের দিন কেন্দ্রভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, এজেন্টদের প্রস্তুতি এবং ডিজিটাল প্রচারণা আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়েছে। কর্মশালা শেষে দলীয় নেতাকর্মীরা এলাকায় এলাকায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে দলীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে।
Design and developed by sylhetalltimenews.com