সাতছড়ি সংরক্ষিত বনে লজ্জাবতী বানর অবমুক্ত

প্রকাশিত: ১:১৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২৬

সাতছড়ি সংরক্ষিত বনে লজ্জাবতী বানর অবমুক্ত

Manual1 Ad Code

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা :: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা থেকে উদ্ধার করা একটি লজ্জাবতী বানর সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। সোমবার রাতে বানরটি অবমুক্ত করেন সাতছড়ি রেঞ্জের বনকর্মীরা।
এর আগে, একই দিন বিকেলে চুনারুঘাট উপজেলার পশ্চিম দেওরগাছ গ্রামের শিক্ষক শাহেদ মিয়ার বাড়ি থেকে সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা বানরটি উদ্ধার করেন।
আইইউসিএনের হালনাগাদ তালিকায় বিশ্বজুড়ে প্রাণীটি ‘সংকটাপন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনেও এটি সংরক্ষিত।
রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, গত রবিবার রাতে পাশের বনাঞ্চল থেকে বানরটি শাহেদ মিয়ার সামাজিক বনায়নে ঢুকে পড়ে। পরে বানরটিকে যত্নসহকারে আটকে রেখে বনবিভাগে খবর দেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ লজ্জাবতী বানরটির শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। এটি সুস্থ রয়েছে। সোমবার রাতে সাতছড়ি সংরক্ষিত বনে বানরটি অবমুক্ত করা হয়।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) সমন্বয়কারী সামিউল মোহসেনিন জানান, লরিসিডি পরিবারের ছোট আকারের সদস্য লজ্জাবতী বানর মূলত নিশাচর। দিনে উঁচু গাছের ডালে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকে, রাতে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়। কচি পাতা, ছোট পোকামাকড় ও পাখির ডিম এদের প্রধান খাদ্য। আয়ু সাধারণত ১০ থেকে ১২ বছর।
তিনি আরো বলেন, ‍“আবাসস্থল ধ্বংস ও পাচারের কারণে নিরীহ এই স্তন্যপায়ী প্রাণীটি অস্তিত্ব সংকটে। সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, হবিগঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, “সংরক্ষিত বনাঞ্চলে মানুষের অবাধ চলাচল লজ্জাবতী বানরের স্বাভাবিক চলাফেরা ও প্রজননে বাধা দিচ্ছে। ফলে তারা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। পর্যটকদের নির্দিষ্ট ট্রেইলের মধ্যে চলাচল নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”