ঢাকা ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:১৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২৬
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা লং রেঞ্জ গোল করেছিলেন দেজান স্ট্যানকোভিচ। ২০১১ সালের ৫ এপ্রিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে শালকের বিপক্ষে প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক ভলিতে অবিশ্বাস্য এক গোল করেন দেজান স্ট্যানকোভিচ। ইন্টার মিলানের মিডফিল্ডার সেদিন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলটি করেন।
৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার এই ফুটবলারের নাম উঠলেই তার সেই বিখ্যাত গোলের কথা মনে পড়ে। ১৯৭৮ সালে বেলগ্রেডের জেমুনে তার জন্ম। স্টানকোভিচের ছোটবেলা কেটেছে রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে। অলিগলিতে ফুটবল খেলে বেঁচে থাকার রসদ পেতেন তিনি।
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বেড়ে ওঠার স্মৃতি চারণ করে স্ট্যানকোভিচ বলেছিলেন, ‘‘আমি যখন নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকাই, তখন বলতে পারি, আমার ফুটবলের শুরুটা আসলে ফুটসল থেকেই। তখন অবশ্য আমরা একে শুধু ‘স্ট্রিট ফুটবল’ বলতাম।”
তিনি নাগরিকত্ব না বদলিয়ে ভিন্ন তিন দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন। দেজানের গল্পটা আসলে শুধু একজন ফুটবলারের গল্প নয়, বদলে যাওয়া এক দেশেরও গল্প। তিনি জন্মেছিলেন যুগোস্লাভিয়ায়।
১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বমঞ্চে পা রাখেন দেজান। তখন তিনি খেলছিলেন ফেডারেল রিপাবলিক অব যুগোশ্লাভিয়ার হয়ে। প্রথম বিশ্বকাপেই প্রতিভার ঝলক দেখান। জার্মানির বিপক্ষে গোল করে নজর কাড়েন। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দল পৌঁছে যায় শেষ ষোলোয়।
এরপর যুগোস্লাভিয়ায ভেঙে তৈরি হয় সার্বিয়া ও মন্টেনিগ্রো। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে দেজান নামলেন সেই নতুন দেশের অধিনায়ক হিসেবে। যদিও আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের গ্রুপে পড়ে দল বেশিদূর এগোতে পারেনি।
ক্লাব ফুটবলেও তখন দেজানের সোনালি সময়। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে দুর্দান্ত গোল করার পর ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের নজর কেড়ে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ইটালির লাৎসিওতে পাড়ি জমান। সেখানে শিরোপা জেতেন। ২০০৪ সালে তিনি যোগ দেন ইটালির ইন্টার মিলানে। পরে হোসে মোরিনহোর অধীনে তিনি হয়ে ওঠেন দলের অন্যতম ভরসা।
২০০৯-১০ মৌসুমে ইন্টার মিলান জিতে নেয় ‘ট্রেবল’। সিরি আ, কোপা ইটালিয়া এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের অন্যতম নায়ক ডেয়ান। জেনোয়ার বিপক্ষে তার দূরপাল্লার সেই দুর্দান্ত গোল আজও সমর্থকদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।
এরপর ২০১০ সালে সার্বিয়া স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে দেজান বিশ্বকাপ খেলেন সার্বিয়ার হয়ে। সেই বিশ্বকাপে সার্বিয়া জার্মানিকে ১-০ গোলে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত গ্রুপ পর্ব পেরনো হয়নি। তবু দেজানের বিশ্বকাপ সফর ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হলেও দেজান স্ট্যানকোভিচ ফুটবল ছাড়েননি। এখন তিনি সার্বিয়ার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রেড স্টার বেলগ্রাডের কোচ। ফুটবল ইতিহাসে বহু তারকা এসেছেন, বহু কিংবদন্তি জন্ম নিয়েছেন। কিন্তু এমন ফুটবলার, যিনি নাগরিকত্ব না বদলিয়ে তিনটি ভিন্ন দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন।
Design and developed by sylhetalltimenews.com