তীর – ধনুকের মহড়া

প্রকাশিত: ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০২৫

তীর – ধনুকের মহড়া

Manual2 Ad Code

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় স্টেডিয়ামে ধরা পড়লো ভিন্ন এক দৃশ্য। এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে সবুজ গালিচায় উৎসবের আমেজ। শেষ সময়ে তীর-ধনুক নিয়ে কিছুক্ষণ আরচারদের প্রস্তুতির মহড়া চললো। ঘড়ির কাঁটায় ৯টা বাজতেই বাহারি রংয়ের জার্সিতে একে একে আরচাররা স্টার্টিং পয়েন্টে দাঁড়ালেন। এরপরই আরচারিতে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের মঞ্চ প্রবেশ করলো মূলপর্বে। পুরুষদের রিকার্ভ ইভেন্ট দিয়ে শুরু বাছাইপর্ব। এরপর হয় মেয়েদের কম্পাউন্ড ইভেন্টের বাছাইপর্বের লড়াই। স্বল্প বিরতি দিয়ে দু’টি ইভেন্টের তিন রাউন্ড শেষে আরচাররা নিজেদের অবস্থান যাচাই করেন। বার্তা দেন পদকের লড়াইয়ে থাকার। তৃতীয়বারের মতো এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক বলেই কন্ডিশন ও সমর্থকদের পূর্ণ সমর্থন পাবেন দেশীয় আরচাররা। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পদক বাগিয়ে নেয়ার বড় সুযোগ বাংলাদেশের। কিন্তু বাছাইপর্বের রিকার্ভ এককে প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি সাগর ইসলাম ও আবদুর রহমান আলিফ। মোহাম্মদ রাকিরের পারফরম্যান্সও আশা জাগানিয়া নয়। এদের ব্যর্থতার মাঝে আলো ছড়িয়েছেন রাম কৃষ্ণা।

৬২ জন প্রতিযোগীর ষষ্ঠ হয়েছেন। পরের ধাপে উন্নতি করে পদক জেতাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘নিজের পারফরম্যান্সে আমি খুশি। ৬ নম্বরে এসেছি। এটা আমার জন্য ভালো পজিশন। বাতাসের প্রভাব ছিল। বেসিক মেনটেন করার চেষ্টা করেছি। নক আউট কঠিন চ্যালেঞ্জ। যে কেউ যে কাউকে হারিয়ে দিতে পারে। ক্যারিয়ার সেরা
পারফরম্যান্স দিতে পারলে পদকের আশা করতে পারি।’ কম্পাউন্ড নারী ইভেন্টে ৬৯৩ পয়েন্ট পেয়ে ১২তম হয়েছেন বন্যা আক্তার। যেটি তার ক্যারিয়ার সেরা অবস্থান। পরের ধাপেও সেটি বজায় রাখতে চান বন্যা। তিনি বলেন, ‘কালকের (আজ) জন্য এই পারফরম্যান্স আত্মবিশ্বাস জোগাবে।’ জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-নেপাল প্রীতি ফুটবল ম্যাচের কারণে টুর্নামেন্টের ফাইনাল হবে আর্মি স্টেডিয়ামে। এটিকে খুব বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না প্রধান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক। তিনি বলেন, ‘সবার জন্যই পরিস্থিতি এক। আশা করছি ভেন্যু বদলালেও সমস্যা হবে না। আমরা পদকের জন্যই খেলবো।’  স্বাগতিক বাংলাদেশের মতো একই লক্ষ্যে এলিমিনেশন রাউন্ডে খেলতে নামবে বাকি দেশের আরচাররা। ইরাকের ১৯ বছর বয়সী খুদে আরচার আবদুল্লাহ মাশিদা তেমনটাই জানালেন। বাংলাদেশের এসেছেন চতুর্থবারের মতো। তাই এবারের টুর্নামেন্ট নিয়ে বেশ আশাবাদী বাগদাদের স্থায়ী এই বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই প্রথম হওয়ার জন্য লড়াইয়ে নামবো। বাংলাদেশের কন্ডিশন আমার বেশ পরিচিত। আশা করি পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবো। ইরানের কম্পাউন্ড ইভেন্টের কোচ বিয়াযাদ পাখতান অবশ্য শিষ্যদের উন্নতিতে চোখ রাখবেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের আরচাররা বেশ তরুণ। এখানে আসার আগে দুই মাস প্রস্তুতি নিয়েছি।
আশা করছি আমরা পদকের লড়াইয়ে ভালো চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবো।’ সৌদি আরব আরচারি ফেডারেশন কমিটির নির্বাহী সদস্য আবদুল্লাহ আল নুইফি বলেন, ‘তরুণদের বাড়তি সুযোগ করে দেয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। এখানকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাতে চাই।’ উজবেকিস্তানের প্রধান কোচ বাইজাহান উলভেদেভের লক্ষ্যও এক। তিনি বলেন, ‘বড় টুর্নামেন্ট আমাদের শেখার মঞ্চ। কিছুদিন আগে আমরা কোরিয়ায় পদক জিতেছি। এখানেও পদকের আশা করছি।’ ভুটানে আরচারির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। দেশটির শতকরা আশি ভাগ মানুষ খেলাটির প্রেমে মজেছে। এই জনপ্রিয়তায় নতুন মাত্রা যোগ করতে এবারের আসরে পদক পেতে চায় তারা। দেশটির কোচ চাইশি ত্রিং বলেন, ‘ভুটানে অনেক আরচার আছে। তবে তারা ছোট দূরত্বে নিশানা ভেদ করতে চায়। বৈশ্বিক আসরের জন্য এখন কিছু খেলোয়ার তৈরি হচ্ছে। আশা করি সামনে ভালো কিছু হবে।’ টুর্নামেন্টে পদকের লড়াইয়ে হট ফেভারিটের তালিকায় আছে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া। এদের টক্কর দেয়ার ক্ষমতা বাকি দেশগুলোর রযেছে। এখন দেখার বিষয়, শেষতক কাদের গলায় উঠে এশিয়ার আরচারির আকাঙ্ক্ষিত পদক।

Manual7 Ad Code

 

Manual4 Ad Code