ঢাকা ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৫৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২৫
স্পোর্টস ডেস্ক :আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে সিলেট টেস্ট জিতলো বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে সফরকারীদের ২৮৬ রানের জবাবে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় স্বাগতিকরা। আট উইকেটে ৫৮৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে শান্তর দল। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়ের (১৬৯) পর সেঞ্চুরি পান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (১০০)। আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম (৮০) ও টপ অর্ডার ব্যাটার মুমিনুল হক (৮০) অল্পের জন্য সেঞ্চুরি পাননি। বল হাতে আলো ছড়ান অভিষিক্ত স্পিনার হাসান মুরাদ, অভিজ্ঞ তাইজুল ইসলাম ও পেসার নাহিদ রান। স্পোর্টিং উইকেটে দুর্দান্ত জয় উপহার দেয় বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডকে হারায় ইনিংস ও ৪৭ রানে। এই জয়ের আত্মবিশ্বাস দ্বিতীয় টেস্টে মিরপুরে কাজে দেবে বিশ্বাস টাইগার অধিনায়কের।শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্টে নেতৃত্বভার ছাড়েন শান্ত। তবে বিসিবি’র চেষ্টায় সাদা পোশাকে বাংলাদেশের অধিনায়কত্বের দায়িত্বে বহাল থাকেন তিনি। আর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শুরুটা জয়ে রাঙালেন শান্ত। ব্যাট হাতে তিনি প্রথম ইনিংসে পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা। যেটি তার অধিনায়ক হিসেবে চতুর্থ সেঞ্চুরি। তবে অধিনায়ক হওয়ার কারণেই যে পারফরম্যান্সে উন্নতি হয়েছে মানতে নারাজ ২৭ বছর বয়সী বাহাতি ব্যাটার। বরং অধিনায়কত্বের চাপ ছাড়াই মাঠে নামেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘ব্যাটিংয়ের সময় ব্যাটার হিসেবে খেলতে পছন্দ করি। আমার ভেতরে একবারের জন্যও মনে হয় না যে আমি অধিনায়ক হিসেবে খেলছি। চিন্তা করি যে কিভাবে ব্যাটার হিসেবে অবদান রাখতে পারি। ওইটাই মূল লক্ষ্য থাকে। অফ দা ফিল্ড বা যখন ফিল্ডিং এ থাকি তখন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করি।
মাঝের সময়টা স্কিল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করেছেন শান্ত। তবে শুরুটা কঠিন ছিল তার। এ ব্যাপারে শান্ত বলেন, ‘প্রথম কিছুদিন কঠিন ছিল, টু বি ভেরি অনেস্ট। বাট হ্যাঁ, তারপরে অনেকটা রিল্যাক্স হয়ে গিয়েছিলাম এবং এনজয় করেছি পুরো সময়টা, নিজেকে সময় দিয়েছি, পাশাপাশি ফ্যামিলিকে সময় দিয়েছি, নিজের ক্রিকেটটা আর একটু কিভাবে ইম্প্রুভ করা যায় স্কিল ওয়াইজ, মেন্টালি- এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেছি। বাট আমি মনে করি যে ওই সময়টা আমার খুব ভালো কেটেছে।’ এখনই নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে তৃপ্ত হতে চান না টাইগার অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘মুশফিক ভাই নিরানব্বইটা টেস্ট খেলে ফেলেছে। ওই নিরানব্বই, একশো, দেড়শো খেলার পরে যদি এরকম ধারাবাহিক হতে পারি, তবেই বলতে পারবো ভালোভাবে ক্যারিয়ার শেষ করতে পেরেছি।’
টেস্টে পাঁচটি ফিফটির পাশাপাশি আটটি সেঞ্চুরি করেছেন শান্ত। ফিফটি থেকে হান্ড্রেডে কনভার্সেশন রেট ৬০ শতাংশ। সাধারণত এমনটা বাংলাদেশের অন্য ব্যাটারদের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। এ ব্যাপারে টেস্ট অধিনায়ক বলেন, ‘মাত্র মনে হয় ৩৮ ম্যাচ খেলছি। সো এখনই এত লম্বা মানে এত ভালো ভালো কথা শোনার আসলে অভ্যাস আমার নাই। তো আমার মনে হয় যদি ক্যারিয়ার শেষে এরকম কনসিস্টেন্ট থাকতে পারি, তাহলে ভালো লাগবে। বাট চিন্তা করে করি না, চেষ্টা করি যে যখন সেট হই, চেষ্টা থাকে যে কিভাবে আমি বড় রান করতে পারি টিমের জন্য।’
সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট
ম্যাচটি হবে মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে। এখানে উইকেটের আচরণ সাধারণত সিলেটের মতো স্পোর্টিং হয় না। মিরপুরের উইকেট বেশি স্পিনবান্ধব ও মন্থর হয়ে থাকে। হোম অফ গ্রাউন্ডে ব্যাটারদের স্পিন সামলানো কঠিন হবে কিনা এমন প্রশ্নে শান্ত বলেন, ‘মিরপুরে যেকোনো প্রতিপক্ষ, যেকোনো বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে অলওয়েজ চ্যালেঞ্জ থাকে। বাড়তি কোন চিন্তা করার কোন সুযোগ নেই। চ্যালেঞ্জ থাকবে, কিন্তু ওই চ্যালেঞ্জটা কিভাবে আমরা মোকাবিলা করি এটা গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচটা যেভাবে আমরা খেলেছি, আশা করবো এই কনফিডেন্সটা মিরপুরে কাজে দিবে।’
ঘরের মাঠে সিরিজ হলে স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা নেয় দেশগুলো। নিজেদের অনুকূল পরিবেশ অনুযায়ী উইকেট তৈরি করে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ নেয়ার পক্ষে মত দিলেও স্পোর্টিং উইকেটে খেলতে চান শান্ত। তিনি বলেন, ‘যদি সুযোগ থাকে, অবশ্যই স্পোর্টিং উইকেটে খেলাটা খুবই ইম্পর্ট্যান্ট। দিন শেষে আপনার এটাও ভাবতে হবে যে এটা একটা ইন্টারন্যাশনাল টেস্ট ক্রিকেট। এখানে খেলা জিতাটাও ইম্পর্ট্যান্ট। জেতার জন্য যেটুক সুবিধা নেওয়া দরকার, সেটাও নিতে হবে। কিন্তু আমার মনে হয় স্পোর্টিং উইকেট থাকলে খুব ভালো।’
Design and developed by sylhetalltimenews.com