ঢাকা ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:০২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০২৫
জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত সরকার। তবে রায় সম্পর্কে সরাসরি মন্তব্য না করে প্রতিবেশী দেশের স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে দিল্লি।
সোমবার (১৬ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের জনগণের ‘সর্বোচ্চ স্বার্থ’ রক্ষা করতে তারা সব অংশীজনের সঙ্গে ‘গঠনমূলক’ আলোচনায় সম্পৃক্ত থাকবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায়ের বিষয়ে জেনেছে ভারত। নিকট প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশের শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এর আগে সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে ঘোষিত রায়ে শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড এবং মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। তাকে পলাতক দেখিয়েই এ মামলার বিচারকাজ শেষ হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাকে ফেরত দিতে দিল্লিতে চিঠি পাঠিয়েছিল; তবে ভারত কোনো সাড়া দেয়নি।
রায় ঘোষণার পর সোমবার ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ভারতকে পুনরায় প্রত্যর্পণ চুক্তির বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া কোনো দেশের পক্ষে বন্ধুসুলভ আচরণ নয় এবং তা ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার সামিল।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, রায়ের পর আবারও হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিতে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।
Design and developed by sylhetalltimenews.com