ঢাকা ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:১৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০২৫
আয়ারল্যান্ড সিরিজ শেষে বিশ্রামে রয়েছে জাতীয় ক্রিকেট দল। ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জয়ের পর ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সূচি শেষ করলো টাইগাররা। আগামী বছর আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য এখন বাংলাদেশের হাতে আর কোনো আন্তর্জাতিক সিরিজ নেই। তাই আগামী ২৬শে ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগই (বিপিএল) জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার একমাত্র ভরসা। অধিনায়ক লিটন কুমার দাসসহ কোচিং স্টাফের সদস্যরাও এই লীগকে বিশ্বকাপের আগে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে থাকার দারুণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। এই প্রসঙ্গে লিটন জানান, আসন্ন বিপিএলের পারফরম্যান্সের ওপর বিশ্বকাপের স্কোয়াড অনেকটাই নির্ভর করবে। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে সুযোগ পেতে পারফরম্যান্সের গুরুত্বের ওপর জোর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সামনে বিপিএল আছে, সেটার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। বিপিএল একটা বড় আসর, এখানে যদি কেউ অসাধারণ ক্রিকেট খেলে, অবশ্যই তার জন্য জায়গা আছে, কারণ পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই খেলোয়াড় বাছাই করা হবে।’ তবে তিনি সতর্ক করেন যে, যারা বর্তমানে দলে ভালো পারফর্ম করছে, তাদের বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ক্রিকেটাররা ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ-এ তাদের সেরা ক্রিকেট খেলবেন এবং আবার যখন জাতীয় দলে ফিরবেন, তখন সেই ছন্দ ধরে রাখবেন। অধিনায়ক লিটন দাস সব মিলিয়ে আয়ারল্যান্ড সিরিজের মাধ্যমে বিশ্বকাপের জন্য যথার্থ প্রস্তুতি হয়েছে বলে মনে করছেন। টানা আন্তর্জাতিক খেলা শেষে এবার ক্রিকেটারদের ব্যস্ততা বাড়বে ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ নিয়ে। টানা খেলার ক্লান্তি এবং ইনজুরি ভাবনা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দুশ্চিন্তার অন্যতম কারণ। সাধারণত পেসারদের সুরক্ষিত রাখতে বোর্ড একটি ওয়ার্ক-লোড ম্যানেজমেন্ট পলিসি অনুসরণ করে। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে দলের চাহিদা মেটাতে গিয়ে পেসারদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বিসিবিকে এক্ষেত্রে বাড়তি নজর দিতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পেসারদের ইনজুরি-মুক্ত রাখতে ‘বিসিবি’কে অবশ্যই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দিতে হবে, যা তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমানসহ অভিজ্ঞ পেসারদের সুরক্ষার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কেননা, বিশ্বকাপের আগে তাদের রোটেশন পলিসি অনুযায়ী খেলানোর জন্য বিশেষ নির্দেশনার প্রয়োজন।
যদিও টাইগারদের পেস বোলিং কোচ শন টেইট ইনজুরি নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। তার মতে, বিশ্বকাপের আগে বিপিএল অনুষ্ঠিত হওয়াটা ইতিবাচক দিক। কারণ এতে খেলোয়াড়রা প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের মধ্যে থাকবেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইনজুরি যেকোনো সময় হতে পারে, তাই ফাস্ট বোলিং-এর কোচ হিসেবে তিনি এখন বিশ্বকাপ নিয়েই ভাবছেন। সামপ্রতিক সময়ে বিশ্ব ক্রিকেটে বেশ সমাদৃত হয়েছে বাংলাদেশের পেস ইউনিট। তাসকিন-মুস্তাফিজিদের অভিজ্ঞতার সাথে শরিফুল ইসলাম ও তানজিদ হাসানের আগ্রাসী মনোভাব বোলিং আক্রমণে ভিন্নতা এনেছে। বাংলাদেশ দলের অজি পেস বোলিং কোচ টেইটের মতে, দলে স্থান নিয়ে পেসারদের মধ্যে বর্তমানে যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে, তা পেস ইউনিটের মানোন্নয়নের স্পষ্ট লক্ষণ। শন টেইট আরও জানান, দলে অনেক হাই-কোয়ালিটি বোলার থাকায় সেখান থেকে কয়েকজনকে বেছে নেওয়াটা কঠিন হলেও এটি দলের জন্য ভালো। সংখ্যায় বেশি হওয়ায় বোলারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। তবুও ‘বিপিএল’-এ পেসারদের সুরক্ষায় বিসিবিকে বাড়তি নজর দিতে হবে। বিশেষ করে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করতে রোটেশন পলিসির বিষয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে অবশ্যই বিসিবি’র নির্দেশ মানতে হবে। এদিকে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস মনে করেন, বিশ্বকাপের স্কোয়াড প্রায় চূড়ান্ত হলেও অন্য ক্রিকেটারদের এখনই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তিনি জানান, আসন্ন বিপিএলে কেউ যদি অসাধারণ ক্রিকেট খেলে, তবে তার জন্য অবশ্যই সুযোগ তৈরি হতে পারে। কারণ পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই খেলোয়াড় বাছাই করা হবে।
Design and developed by sylhetalltimenews.com