মায়ামিকে ঐতিহাসিক শিরোপা এনে দিলেন মেসি

প্রকাশিত: ৬:৩৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫

মায়ামিকে ঐতিহাসিক শিরোপা এনে দিলেন মেসি

Manual2 Ad Code

এমন একটি দিনের জন্যই তো লিওনেল মেসির আগমন হয় ইন্টার মায়ামিতে। স্বপ্নের সেই মেজর লীগ সকার (এমএলএস) কাপ শিরোপা এনে দিলেন আর্জেন্টাইন জাদুকরই। ফাইনালের ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ের দিন জোড়া অ্যাসিস্ট করেন মেসি। এমএলএস ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দুই মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেলেন লা পুলগা। তবে মেসির কাছে মুখ্য তাদের দলগত ট্রফিই। সবার নিরলস প্রচেষ্টায় সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

দু’বছর আগে মেসির অবতরণের পর লীগস কাপ জিতে প্রথমবারের মতো শিরোপার স্বাদ পায় ফ্লোরিডার ক্লাব ইন্টার মায়ামি। গত মৌসুমে রেকর্ড পয়েন্টে সাপোর্টার্স শিল্ড জিতে নেয় তারা। তবে শিরোপার মূল লড়াইয়ে প্লে-অফ থেকে ছিটকে যায় প্রথম রাউন্ডেই। এরপর থেকে জ্বলে ওঠে হাভিয়ের মাসচেরানোর শিষ্যরা। নিয়মিত মৌসুমের পর প্লে-অফেও নিজের জাত চেনালেন মেসি। প্লে-অফে আর্জেন্টাইন মহাতারকার মতো ১৫ গোলে অবদান আগে দেখেনি এমএলএস। কাপ শিরোপা জিতে লক্ষ্যপূরণের কথা জানিয়ে ৩৮ বছর বয়সী মেসি বলেন, ‘গত বছর আমরা লীগে (নিয়মিত মৌসুমে) প্রথম হয়েও দুর্ভাগ্যজনকভাবে (প্লে-অফে) প্রথম রাউন্ড থেকে ছিটকে যাই।

Manual5 Ad Code

এবার আমাদের মূল লক্ষ্য পূরণ হলো। এমএলএস কাপই চূড়ান্ত পুরস্কার। দল নিজেদের দারুণভাবে মেলে ধরেছে এবং উপলক্ষের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে।’ মায়ামি অধিনায়ক আরও বলেন, ‘এমএলএস কাপের লক্ষ্য অর্জন করতে পারা আমাদের ও মায়ামির মানুষদের জন্য সুন্দর এবং আবেগময় এক মুহূর্ত। সত্যি বলতে, এটি এখনও অনেকটাই নতুন ক্লাব। আগের মৌসুমগুলোয় শিরোপা জিততে পারাটা আমাদের জন্য দারুণ ছিল। তবে মূল লক্ষ্য ছিল এটিই, এমএলএস কাপ জয় এবং আমেরিকার লীগের সেরা হওয়া। আমাদের সৌভাগ্য, আমরা পেরেছি।’

Manual4 Ad Code

২০১৩তে এই এমএলএসেই নিজের ফুটবলীয় ক্যারিয়ারের ইতি টানেন মায়ামির অন্যতম মালিক ডেভিড বেকহ্যাম। সেখানে তার একটি চুক্তির অংশ এমন ছিল যে, তিনি চাইলে অনেক কম মূল্যে নতুন একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি শুরু করতে পারবেন। নানা পদক্ষেপের পর অবশেষে হোর্হে মাস ও হোসে মাসকে নিয়ে মায়ামির যাত্রা শুরু করেন এ ইংলিশ কিংবদন্তি ফুটবলার। কাপ শিরোপা জিতে মেসিকে কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি বেকহ্যাম। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এ সাবেক তারকা বলেন, ‘এটি একটি অবিশ্বাস্য পথচলা। সে (মেসি) স্রেফ মায়ামিতে থাকাটা উপভোগ করতে এখানে আসেনি। তার স্ত্রী-সন্তানেরা অবশ্যই মায়ামিকে ভালোবাসে, তবে সে এখানে জিততে এসেছে এবং লিও এমনই।’

Manual3 Ad Code

৪৭ না ৪৮, মেসির ব্যক্তিগত শিরোপা নিয়ে বিভ্রান্তি

মেসির এমএলএস কাপ জেতার পর একটি বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা যাচ্ছে সবখানেই। যেখানে বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স লিখেছে এটি আর্জেন্টাইন মহতারকার ক্যারিয়ারের ৪৭তম শিরোপা, সেখানে অনেক স্প্যানিশ ও ইংলিশ সংবাদমাধ্যম দাবি করছে সংখ্যাটি আসলে ৪৮। মূল বিষয় বুঝতে চাইলে একটু পেছনে ফিরতে হবে।
বার্সেলোনার হয়ে সাকুল্যে ৩৫টি ট্রফি জেতেন মেসি। প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) হয়ে জেতেন মোট ৩টি। জাতীয় দলের যুব পর্যায়ে জেতেন দু’টি (একটি অলিম্পিক সোনা)। মূল দলের হয়ে একটি বিশ্বকাপ, দু’টি কোপা আমেরিকা ও একটি ফিনালিসিমাসহ জেতেন মোট ৪টি ট্রফি।

এবং মায়ামির হয়ে জিতলেন ৩টি ট্রফি। তাহলে মেসির ঝুলিতে ট্রফি দাঁড়াল ৪৭টি। অন্যটি কীসের? হিসেবটা একদমই সহজ। এমএলএস কাপ জিততে প্রথমে আঞ্চলিক ট্রফি ইস্টার্ন কনফারেন্স কাপ জিততে হয় মেসিদের। সেই টুর্নামেন্ট জিতেও একটি ট্রফি পায় তারা। তবে ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এটিকে বড় ট্রফি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। প্যাঁচটা এখানেই। যেহেতু ইস্টার্ন কনফারেন্স ট্রফি ফিফা স্বীকৃত নয়, তাই এটিকে ঝুলির বাইরেই রাখতে হচ্ছে মেসিকে।

Manual4 Ad Code