প্রজাতন্ত্র দিবসের সংবর্ধনায় ভারত–বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরলেন হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা

প্রকাশিত: ৯:০৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২৬

প্রজাতন্ত্র দিবসের সংবর্ধনায় ভারত–বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরলেন হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেফক :২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ভারতের ৭৬তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের গভীরতা, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এবং ভবিষ্যতমুখী সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারত একটি সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সমতা ও মর্যাদার আদর্শে নিজেদের অঙ্গীকারবদ্ধ করে। তিনি বলেন, গত ৭৬ বছরে ভারত একটি দরিদ্র দেশ থেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ও অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে এবং আজ বৈশ্বিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

Manual7 Ad Code

হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, এই দীর্ঘ যাত্রায় বাংলাদেশ ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযাত্রী। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে যৌথ ত্যাগের ইতিহাস দুই দেশের সম্পর্ককে একটি বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভারত ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সান্নিধ্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম থেকে শুরু করে সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক ও চলচ্চিত্র—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের জনগণের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক যোগসূত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Manual2 Ad Code

অর্থনৈতিক ও সংযোগ খাতে অগ্রগতির উদাহরণ হিসেবে হাই কমিশনার সীমান্তবর্তী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। ভারতের একটি শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে উচ্চগতির ডিজেল পরিবহনের আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন এবং ভারত ও নেপাল থেকে ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগগুলো আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতির বাস্তব দৃষ্টান্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ভারত–বাংলাদেশ সরবরাহ শৃঙ্খল বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে শক্তিশালী করছে, যা পারস্পরিক সহযোগিতা ও নির্ভরশীলতার সুফল প্রমাণ করে।

Manual4 Ad Code

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে প্রণয় ভার্মা বলেন, বিশ্বাস, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সময় এসেছে—যা পারস্পরিক স্বার্থ, সুবিধা ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে টেকসইভাবে এগিয়ে যাবে। তরুণ, দক্ষ ও উদ্ভাবনী জনগোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত দুটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের টেকসই প্রবৃদ্ধির অনুঘটক হতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আঞ্চলিক মূল্য শৃঙ্খল, যৌথ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ও জ্বালানি করিডোর নির্মাণের মাধ্যমে উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দুই দেশ একসাথে কাজ করতে পারে। একইসঙ্গে পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের ওপরও তিনি জোর দেন।

Manual6 Ad Code

বক্তব্যের শেষাংশে হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করেন এবং বলেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপ্রিয়, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও সেই সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।