ঢাকা ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২৬
মাসুদা সিদ্দিকা রুহী :
আজ ১৬ জুন ডক্টর এম শহীদুল ইসলাম শহীদ অ্যাডভোকেট এর জন্মদিন । এই দিন আলোকিত করে তিনি এসেছিলেন।
ডক্টর এম শহীদুল ইসলাম শহীদ অ্যাডভোকেট একজন Versatile humanity সম্পন্ন একজন মানুষ। সাহিত্যের যে শাখায় হাত দিয়েছেন সোনা ফলেছে।
তিনি একাধারে বিশিষ্ট আইনজীবী,অধ্যক্ষ , লেখক, গবেষক, কলামিস্ট, কবি , গীতিকার, রোটারিয়ান, পৃথিপাঠক, দক্ষ সংগঠক, মানবাধিকারকর্মী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শুধু এগুলোই নয় তিনি অত্যাচারিত, নির্যাতিত মানুষের আইন ও কল্যাণের সেবক। তিনি অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, বিনয়ী ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তিনি মানুষকে মূল্যায়ন করেন। সাধারণ মানুষদের সাথে থেকে নিজেকে উজার করে দিয়েছেন কাজ দিয়ে। পরিবার আত্বীয়স্বজনের কোনো বিপদ হলে তিনি ছুটে যান। বহুগুণে গুণান্বিত সদা মিষ্টভাষী, সহজ ও সরল সাদা মনেট মানুষটি ইতোমধ্যে আইন ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় যাটটি বই লিখে, সম্পাদনা ও প্রকাশনা করে আইন অনুষদ ও সাহিত্য জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তিনি প্রচুর সম্মাননা পুরস্কারও পেয়েছেন। বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লেখনীর মাধ্যমে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনসহ নানাবিধ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর যুক্তিসংগত লেখনীর মাধ্যমে অনেক দাবি আদায় হয়েছে। কবিতা লেখায়ও দেখিয়েছেন নিজের স্বকীয়তা। শুধু কবিতা নয়, আবৃত্তিও করে থাকেন সমানতালে।এপার বাংলা ওপার বাংলার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন। তিনি সাহিত্যরসে পরিপূর্ণ একজন মানুষ। তাঁর প্রতিটি কাজে সৃজনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। এই সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে তিনি একের পর এক সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। সাহিত্যের সকল ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জন করলেও গীতিকবিতার জগতে অতৃপ্তি ছিল। এই অতৃপ্তিটাকেও তিনি তাঁর চেষ্টা ও সৃজনশীলতা দিয়ে ইতোমধ্যে পূরণ করেছেন। ২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারি করোনার সময়ে, এম শহীদুল ইসলাম শহীদ গীতিকবিতা মানে গান লেখা শুরু করেন।
তিনি তাঁর অত্যন্ত প্রিয় ছাত্র অমিতাভ চক্রবর্তী রনির কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই অসাধ্য সাধন করেন। তাঁর ছাত্র করোনাকালীন একশত পঞ্চাশটির বেশি গান রচনা করে। তিনি তখন ভাবেন যদি আমার ছাত্র পারে তাহলে আমি কেন লিখতে পারব না। তিনি গান নিয়ে চিন্তা শুরু করেন। গানের বই পড়া শুরু করেন। গান কীভাবে লিখতে হয় তা বোঝার চেষ্টা করেন। তিনি অনেক শিল্পী ও গীতিকারের কাছ থেকে পরামর্শ নেন। তারপর এক লাইন, দুই লাইন করে লিখতে থাকেন। এভাবে লিখতে লিখতে একটি পূর্ণাঙ্গ গানে রূপ নেয়। পরবর্তীকালে তিনি যাঁরা গীতিকার তাঁদের কাছে লেখা পাঠিয়ে দেন। গান হয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। আশানুরূপ সাড়া পাওয়ার পরে এম শহীদুল ইসলাম শহীদ আর থেমে থাকেননি। একটা, দুইটা করে প্রায় একশত গান লিখে ফেলেন। গান লিখতে গিয়েই তিনি আবিষ্কার করেন নিজের সুরের প্রতিভার। লেখার সময় একটু একটু সূর করে পূর্ণাঙ্গ গানেরই সুর করে নেন। তারপর নিজেই কয়েকটা গান গাওয়ার চেষ্টা করেন। যদিও পেশাদার শিল্পীর মত গাইতে পারেননি কিন্তু অনেক ভালো কণ্ঠ দেন। এবং লোক সমাজে সে গানগুলি প্রসিদ্ধ হতে থাকে।
এই গান রেকর্ডিং করে প্রথমেই তাঁর প্রিয় ছাত্র শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজের জনপ্রিয় প্রভাষক রনদ্বীপ চৌধুরী লিংকনের কাছে পাঠাতেন-গান ভালো না খারাপ হয়েছে তা জানার জন্য। কমপ্লিমেন্ট শোনার পরে আরেকটি গানের কাজ শুরু করতেন।
এভাবেই তিনি নিজের লেখা প্রায় বিশটি গানের সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন। সুরের কথা বললে এক কথায় অসাধারণ। তিনি মনে প্রাণে চান নিজের মৌলিক কিছু গান তৈরি হোক। তিনি খুব ভালো গাইতে না-পারলেও সুর ও কথা যেন তাঁর নিজস্ব হয়। তাই তিনি প্রতিনিয়ত এভাবে তাঁর গান লেখা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি প্রায়ই বলে থাকেন, গান লেখার মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দিতে চান। গান হচ্ছে মানুষের মনের খোরাক। গান হচ্ছে বিশুদ্ধতার প্রতীক। গান শোনার মাধ্যমে মানুষ তাঁর নিজস্ব স্বকীয়তাকে জানতে পারে। গানের সঙ্গে আত্মার যেন পরম সম্পর্ক রয়েছে। তিনি
গান নিয়ে আরও দূর এগিয়ে যেতে চান। পরিশ্রম এবং কঠোর অধ্যাবশায় ইতিমধ্য
“ যেতে হয় এক রঙ্গে .এবং জম্মিলে মরিতে হয় ‘
দুটি গানের বই প্রকাশ হয়েছে । গানকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই বই দুটি প্রকাশ । ভবিষ্যতে আরও গানের বই প্রকাশ করার ইচ্ছা রয়েছে। গানই মানুষের প্রাণ। গানের মাধ্যমেই যেন মানুষ তাঁর এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা ও আনন্দ খুঁজে পায়।
এম শহীদুল ইসলাম শহীদ ১৯৭২ সালের ১৬ ই জুন ভাটি অঞ্চলের রাজধানী হিসেবে খ্যাত হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার আজিমনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি এমএসসি, এলএলএম, পিজিডি ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর স্ত্রী রাহিমা সুলতানা মনি একজন সরকারি চাকুরিজীবী আর একমাত্র সন্তান আবরার ফাইয়াজ বন্ধন সম্প্রতি কিজিকিস্তান সরকারী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম বি বি এস ডিগ্রী অর্জন করেছেন । এম শহীদুল ইসলাম শহীদ বর্তমানে সিলেট মেট্রোপলিটন ল’ কলেজে প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সিলেট জজ কোর্টে একজন বিশিষ্ট সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন। এভাবেই তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে জীবনকে উপভোগ করছেন এবং মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট সবসময় শুকরিয়া আদায় করেন।
আজ উনার জন্মদিনে ভক্তবৃন্দ,সহকর্মী, নিকটজন, সাহিত্য অনুরাগী পরিবার সকলেই শুভাশিস এবং ভালোবাসা জানিয়েছেন।
Design and developed by sylhetalltimenews.com