হযরত শাহজালাল ও শাহপরাণ (রহ.) মাজারের দানবাক্সে তালা

প্রকাশিত: ১২:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২৬

হযরত শাহজালাল ও শাহপরাণ (রহ.) মাজারের দানবাক্সে তালা

Manual1 Ad Code

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.) হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দানবাক্সে তালা দেওয়া হয় শুক্রবার (১২ জুন) সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই তালা দেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়

এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) বেলা দেড়টার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান সিলেটে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। এসময় তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সিলেটের দুটি বড় ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজার। আমরা এই দুই মাজারকে কেন্দ্র করে কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো এই দুটি প্রতিষ্ঠানকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য মাজারের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে আমরা এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাজারের ব্যবস্থাপনা, কার্যক্রম এবং সার্বিক পরিবেশকে একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের মধ্যে আনার চেষ্টা করছি। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিষয় এবং প্রতিষ্ঠান সম্পর্কেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ মাজার পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতিনিধিদেরও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, মাজার পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। প্রতিদিন কত টাকা আয় হচ্ছে, কোথায় ব্যয় হচ্ছে এবং আর্থিক লেনদেনের সকল তথ্য যথাযথভাবে রেকর্ড ও সংরক্ষণ করা হবে। শাহজালাল (রহ.) মাজার ও শাহপরাণ (রহ.) মাজারের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর সরকারের নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি অব্যাহত থাকবে।’

Manual2 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

জানা যায়, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার সিলেটের ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। সিলেটের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর নাম। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীরা মাজারে আসেন। তারা নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, খাদ্যসামগ্রী ও বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী দান করেন। প্রতিদিনই লাখ লাখ টাকার দান জমা পড়ে এসব মাজারে। তবে সেই অর্থ কীভাবে পরিচালিত হয়, কোথায় ব্যয় করা হয় কিংবা মোট আয় কত-এসব বিষয়ে কখনোই জনসম্মুখে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই মাজারের আয়-ব্যয় নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল ছিল। তাই এই দুই মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উদ্যোগ নেয় সিলেট জেলা প্রশাসন।

 

Manual8 Ad Code