কিনব্রিজ-চাঁদনীঘাট এলাকাকে ‘ছিলটি ঐতিহ্য চত্বর’ নামকরণের দাবি

প্রকাশিত: ১১:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৬

কিনব্রিজ-চাঁদনীঘাট এলাকাকে ‘ছিলটি ঐতিহ্য চত্বর’ নামকরণের দাবি

Manual4 Ad Code

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজের উত্তর পাশের চাঁদনীঘাট, আলী আমজদের ঘড়ি ও সারদা হল সংলগ্ন এলাকাকে ‘ছিলটি ঐতিহ্য চত্বর’ নামকরণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এই এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সৌন্দর্যবর্ধনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ’।

Manual8 Ad Code

​বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১টায় নগরভবনে সিসিক প্রশাসকের হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

​স্মারকলিপিতে বলা হয়, সুরমা নদীর ওপর নির্মিত শতবর্ষী কিনব্রিজ, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত চাঁদনীঘাট, পৃথিমপাশার জমিদার আলী আমজদের ঐতিহাসিক ঘড়ি এবং সংস্কৃতিচর্চার প্রাণকেন্দ্র সারদা হল—এসব স্থাপনা সিলেটের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক এসব স্থান দেখতে আসেন। ​কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদকসেবন, ভাসমান অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মলম পার্টির তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া সার্কিট হাউস সংলগ্ন সড়কে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের অবৈধ স্ট্যান্ড এবং চালকদের বেপরোয়া আচরণের কারণে পথচারী ও দর্শনার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় র‍্যাব সদস্য ইমন আচার্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নগরবাসীর নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Manual1 Ad Code

​৪ দফা প্রস্তাবনা
​এলাকাটিকে ‘ছিলটি ঐতিহ্য চত্বর’ ঘোষণার পাশাপাশি এর নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যবর্ধনে স্মারকলিপিতে ৪টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবগুলো হলো- ঐতিহ্য চত্বর এলাকা থেকে ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য ভারী যানবাহন স্থায়ীভাবে অপসারণ করা, সারদা হল প্রাঙ্গণ থেকে সিটি কর্পোরেশনের পার্কিং করা যানবাহন সরিয়ে নেওয়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা এবং সরকারি উদ্যোগে সমন্বিত সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা।

Manual4 Ad Code

​স্মারকলিপি গ্রহণ করে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “কিনব্রিজ, আলী আমজদের ঘড়ি, চাঁদনীঘাট ও সারদা হল সিলেটের গৌরবের প্রতীক। এসব স্থাপনার সংরক্ষণ এবং এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। নাগরিক সমাজ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে যে দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত যৌক্তিক এবং সিসিক এগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে।”

তিনি আরও জানান, ঐতিহ্যবাহী এই এলাকাগুলোকে পর্যটকবান্ধব ও নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Manual3 Ad Code

​স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন—হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি ড. জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান নূর, সহ-সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক এম এ হান্নান, শাহ মো. আলী রব, আহমেদুর রহমান ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক মো. সোলেমান হোসেন চুন্নু, সহ-সাধারণ সম্পাদক সেলিম মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) শফিক মিয়া, আলাউদ্দিন হোসেন শাহ, সদস্য জুবের আহমদ সার্জন, সেবুল রেজা এবং সাংবাদিক এম এ ওয়াহিদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।