ঢাকা ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৬
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সিরিয়া ও লেবানন থেকে ইসরাইলি বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়া শুরু করতে বলেছেন। নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে ট্রাম্প এ কথা বলেন। মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তারা মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে টিকিয়ে রাখা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়ে জনরায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আর মাত্র তিন মাস বাকি, এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু সিরিয়ায় ইসরাইলের দখলে থাকা এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের মতো কোনো বড় পদক্ষেপ নেবেন কিংবা ইতোমধ্যে যেটুকু পুনঃমোতায়েনের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন তার বাইরে লেবাননে আরও সেনা পুনঃমোতায়েনের অনুমতি দেবেন- এমন সম্ভাবনা খুবই কম।
তবে ট্রাম্পের এ অনুরোধ ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবানন এবং দক্ষিণ সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে রেখেছে।
ইসরাইলের দাবি, ৭ অক্টোবরের হামলার মতো আরেকটি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এ সামরিক উপস্থিতি প্রয়োজন।
ইসরাইল সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অনেকে এসব এলাকার ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পক্ষে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপনের দাবিও তুলছেন। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেছেন, সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি উত্তেজনা সৃষ্টি করছে এবং তা সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
মার্কিন ওই কর্মকর্তার ভাষ্যানুযায়ী, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেছেন, ‘তারা সেখানে আপনাদের চায় না। আপনাদের পুনঃমোতায়েন করা উচিত।’
তিনি আরও যোগ করেন, লেবাননের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য।
অন্যদিকে এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, ‘প্রধানমন্ত্রী তার পক্ষ থেকে ইসরাইলের সীমান্ত বরাবর নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।’
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই ফোনালাপ হয় তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠকের একদিন পর। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক মাস ধরে ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তি করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, নেতানিয়াহু তাদের চাওয়া ছাড় দিতে আগ্রহী নন।
ওই ছাড়গুলোর মধ্যে ছিল, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সিরিয়ার যে ভূখণ্ড আইডিএফ দখল করে রেখেছে, সেখান থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দক্ষিণ সিরিয়ায় একাধিক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে সিরিয়ার নাগরিকরা আইডিএফের উপস্থিতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন এবং ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীরা রোমে ইসরাইলি ও লেবানিজ কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কয়েক সপ্তাহ আগে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। এ চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে বর্তমানে তাদের দখলে থাকা দুটি ‘পাইলট জোন’ থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের সুযোগ করে দিতে সম্মত হয়েছে।
তবে আইডিএফ এখনো ওই দুটি এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নেয়নি। লেবানন সরকার চায়, এই প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হোক এবং পরবর্তী সেনা প্রত্যাহারের জন্য একটি সুস্পষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করা হোক। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দাবি, অন্য এলাকাগুলো থেকে সেনা সরানোর আগে তারা নিশ্চিত হতে চান যে ওই ‘পাইলট জোন’ দুটিতে হিজবুল্লাহর কোনো অস্ত্র বা সামরিক অবকাঠামো অবশিষ্ট নেই। অন্যদিকে লেবাননের পক্ষের বক্তব্য, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হওয়া উচিত।
হোয়াইট হাউজ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে তারা এই বিবরণের সত্যতাও অস্বীকার করেনি। এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে এবং ইসরাইল সব সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে ইসরাইলের বড় বন্ধু এবং শান্তির জন্য আরও বড় সংগ্রামী আর কেউ ছিলেন না।’
Design and developed by sylhetalltimenews.com