ক্রু উদ্ধারের প্রচার-সাফল্য সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান পাল্টা জবাব দিতে সক্ষম

প্রকাশিত: ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০২৬

ক্রু উদ্ধারের প্রচার-সাফল্য সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান পাল্টা জবাব দিতে সক্ষম

Manual6 Ad Code

ডোনাল্ড ট্রাম্প নিঃসন্দেহে ভূপাতিত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের ঘটনাকে একটি প্রচারণাগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরবেন। তবে ৪৮ ঘণ্টার এই নাটকীয় ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, পরাজিত না হওয়া ইরান এখনও পাল্টা আঘাত হানতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।

এটি হোয়াইট হাউসের জন্যও একটি সতর্কবার্তা হওয়া উচিত, যারা এখনও ভাবছে পারস্য উপসাগরের একটি দ্বীপ দখলের জন্য স্থল অভিযান চালানো হবে কি না, বিশেষ করে যদি ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করার মতো উচ্চাভিলাষ থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানে বোমা হামলা এতটাই একতরফা ছিল যে যুদ্ধ শুরুর পাঁচ সপ্তাহ পর একটি মাত্র যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়াও আমেরিকার জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

Manual2 Ad Code

কারণ এমন ঘটনা খুবই বিরল এবং স্মরণীয়। সর্বশেষ ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধে শত্রুপক্ষের হাতে কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল।

এফ-১৫ই কীভাবে ভূপাতিত হয়েছে, তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবে ঘটনাটি প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকাশসীমার আধিপত্য সম্পূর্ণ নিরঙ্কুশ নয়।

Manual5 Ad Code

যদিও তারা প্রতিদিন ইরানে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ বার বোমা হামলা চালাচ্ছে।

একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগলের দাম প্রায় ৩১ মিলিয়ন ডলার, নতুন হলে ১০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে এর চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল উদ্ধার অভিযানটি, যেখানে প্রকৃত সমস্যার শুরু হয়।

Manual6 Ad Code

ইসফাহানের দক্ষিণে একটি পরিত্যক্ত ইরানি বিমানঘাঁটিকে অগ্রবর্তী ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত ব্যর্থ হয়, যখন দুটি সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান মাটিতে আটকে পড়ে।

Manual2 Ad Code

মার্কিন সূত্র জানায়, সেগুলো ইরানের হাতে পড়া ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ধ্বংস করে এবং আহত দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করতে আরও পরিবহন বিমান আনা হয়। পরিবর্তিত এই হারকিউলিস বিমানের প্রতিটির দাম প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ডলার।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া একটি এইচএইচ-৬০ পেভ হক হেলিকপ্টারও শুক্রবার গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ধারণা করা যায়, শুধু এই উদ্ধার অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো বিমানগুলোর মোট ক্ষতি ২৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এমন একটি ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুব বড় কিছু নয়।

যুদ্ধের অংশ হিসেবেই বিমান হারানো বা দুর্ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২১৮টি এফ-১৫ই এবং বিশেষ বাহিনীতে ৫৫টি সি-১৩০ বিমান ছিল।

তবে পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান চালানো রাজনৈতিকভাবে জরুরি ছিল, যাতে ইরান কোনো ক্রু সদস্যকে আটক করতে না পারে। যদি একজন বা দুজনকেই আটক করা হতো, তাহলে তা তেহরানের জন্য বড় প্রচারণা সাফল্য হতো। ১৯৭৯-৮০ সালের মার্কিন দূতাবাস জিম্মি সংকটের স্মৃতি আবারও উসকে দিত, যা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়েছিল।

এই বিষয়টি ট্রাম্প নিজেই জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই কোনো সৈন্যকে ফেলে যাবে না। এটি আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি, তবে এর মানে প্রতিবারই এমন পরিস্থিতিতে আরও ঝুঁকি ও খরচ বহন করতে হবে।

এই ঘটনায় ইরানি বাহিনী এফ-১৫ই-এর কোনো ক্রু সদস্যকে খুঁজে পায়নি। তারা ইসফাহানের দক্ষিণের ওই বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিকেও চ্যালেঞ্জ করতে পারেনি, সম্ভবত আকাশে ভাসমান রিপার ড্রোনের কারণে, যা ৩ কিলোমিটারের মধ্যে আসা যেকোনো ইরানি পুরুষকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য প্রস্তুত ছিল বলে মার্কিন ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে।

তবে উদ্ধার অভিযানের সি-১৩০ বিমানগুলো হারানো বা ধ্বংস হওয়া দেখিয়ে দেয়, ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানে ঝুঁকি কতটা বেশি হতে পারে। সত্যিই কি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর পক্ষে সম্ভব হবে ইসফাহানে ভূগর্ভে রাখা প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম উদ্ধার করে কোনো বড় দুর্ঘটনা ছাড়াই সেগুলো নিয়ে আসা?

নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ১৫০০০ বারেরও বেশি বোমা হামলার পর ইরান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু তবুও তেহরান তুলনামূলক ছোট মার্কিন বা ইসরায়েলি ক্ষতিকেও বড় প্রচারণা সাফল্যে পরিণত করতে পারে, কারণ এমন ক্ষতি খুব কমই ঘটে। অসম যুদ্ধে দুর্বল পক্ষের জন্য একবার সফল হওয়াই যথেষ্ট।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ