ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

প্রকাশিত: ১২:৪৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

Manual5 Ad Code

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কোমায় রয়েছেন এবং দেশটির ধর্মীয় শহর কোমে চিকিৎসাধীন। তিনি বর্তমানে দেশ পরিচালনার মতো অবস্থায় নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টাইমস

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত একটি কূটনৈতিক নোট, যা উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে—সম্প্রতি নিহত দীর্ঘদিনের নেতা আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি অচেতন অবস্থায় আছেন এবং একটি ‘গুরুতর’ শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা নিচ্ছেন।

Manual8 Ad Code

দ্য টাইমস-এর হাতে আসা ওই নথিতে প্রথমবারের মতো তার অবস্থান হিসেবে কোম শহরের উল্লেখ করা হয়েছে। তেহরান থেকে প্রায় ৮৭ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত কোম শিয়া মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি শহর।

নথিতে বলা হয়েছে, ‘মোজতবা খামেনি কোমে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং শাসনব্যবস্থার কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি অংশ নিতে পারছেন না।’

এদিকে একই নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আলি খামেনির মরদেহ কোমে দাফনের প্রস্তুতি চলছে। শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই শহরে একাধিক কবরের জন্য বড় একটি সমাধিসৌধ নির্মাণের প্রস্তুতির কথাও বলা হয়েছে। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, খামেনি পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি মোজতবা খামেনিকেও সেখানে দাফন করা হতে পারে।

Manual5 Ad Code

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, মোজতবা খামেনির অবস্থান সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগে থেকেই অবগত ছিল, তবে তা এতদিন প্রকাশ করা হয়নি।

ইরান সরকার স্বীকার করেছে, যে বিমান হামলায় আলি খামেনি নিহত হন, সেই একই হামলায় মোজতবা খামেনিও আহত হন। ওই হামলায় তার মা, স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং এক সন্তানও নিহত হন।

Manual3 Ad Code

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোজতবা খামেনিকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। মার্চের শুরুতে তাকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত করা হলেও এরপর তার নামে কেবল দুটি লিখিত বিবৃতি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হয়েছে।

Manual1 Ad Code

সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার একটি এআই-নির্মিত ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে তাকে একটি যুদ্ধকক্ষে ইসরাইলের ডিমোনা পারমাণবিক স্থাপনার মানচিত্র বিশ্লেষণ করতে দেখা যায়। তবে তার কণ্ঠ না থাকায় তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।

যদিও ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তিনি এখনো দেশের নিয়ন্ত্রণে আছেন, বিরোধী গোষ্ঠীগুলো বলছে—তিনি কোমায় চিকিৎসাধীন। আবার কেউ কেউ দাবি করেছেন, তিনি পা ভেঙে যাওয়াসহ মুখে আঘাত পেয়েছেন।

এ অবস্থায় দেশটিতে সর্বোচ্চ নেতার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হাতে প্রকৃত ক্ষমতা চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং খামেনি কেবল প্রতীকী নেতা হয়ে থাকতে পারেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন, তবে সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে নয়।

অন্যদিকে, আলি খামেনির দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগে তাকে তার নিজ শহর মাশহাদের একটি শিয়া মাজারে দাফনের কথা বলা হলেও এখনো কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ‘অভূতপূর্ব জনসমাগমের আশঙ্কায়’ তার রাষ্ট্রীয় জানাজা স্থগিত করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ