পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে ইরানকে নতুন প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত: ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২৬

পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে ইরানকে নতুন প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

Manual5 Ad Code

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এসে পৌঁছেছে। দুই দেশ এখন একমত নয় যে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম কতদিনের জন্য বন্ধ থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্প্রতি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার সফর করেন। সেখানে ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা হয়। ভ্যান্স বলেছিলেন, ইরান যেন এখন নয়, দুই বছর পরেও নয়, বরং দীর্ঘ সময়ের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে — সেটাই যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া।

এখন জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরান ২০ বছরের জন্য তার সব পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখুক। এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এটা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নয়। তাই ইরান বলতে পারবে যে পারমাণবিক জ্বালানি তৈরির যে অধিকার আন্তর্জাতিক চুক্তিতে আছে, সেটা তারা ছাড়েনি।

Manual1 Ad Code

গত রোববার সফর শেষে ভ্যান্স সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে কিছু ভালো কথা হয়েছে। এখন দেখার বিষয় তেহরান কতটা নমনীয় হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ইরান কিছুটা নমনীয় হয়েছে, কিন্তু ‘যতটুকু দরকার ততটুকু এগোয়নি।’ পরবর্তী আলোচনা হবে কিনা, সে বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশ্নটা ‘ইরানকেই করা ভালো।’

Manual7 Ad Code

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং আলোচনা দল যুক্তরাষ্ট্রের সীমারেখা একদম স্পষ্ট করে দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্পের কার্যকর নৌ অবরোধ চলায় ইরানের মরিয়া ভাব আরও বাড়বে, কারণ তেলের জাহাজগুলো এখন সুন্দর গালফ অব আমেরিকার দিকে যাচ্ছে।’

আলোচনায় আরেকটি বড় সমস্যা হলো ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৯৭০ পাউন্ড উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। যুক্তরাষ্ট্র চায় এই জ্বালানি ইরানের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। ট্রাম্প এমনকি ইসফাহানে স্থল সেনা পাঠিয়ে এই ইউরেনিয়াম নিয়ে আসার কথাও ভেবেছেন। কিন্তু ইরান বলছে, জ্বালানি দেশের বাইরে যাবে না। তারা বলেছে, জ্বালানিটি এতটাই পাতলা করে দেওয়া হবে যাতে তা অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা না যায়।

২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের সময় ইরানের সঙ্গে যে পারমাণবিক চুক্তি হয়েছিল, তাতে পূর্ণ স্থগিতাদেশ ছিল না। সেই আলোচনা দলের সদস্য রব ম্যালি বলেছেন, ‘কয়েক বছরের জন্যও যদি ইরান স্থগিত রাখে, সেটা ২০১৫ সালের চুক্তির চেয়ে ভালো।’ ট্রাম্প সেই চুক্তিকে ‘ভয়ঙ্কর, একতরফা চুক্তি যা কখনোই হওয়া উচিত হয়নি’ বলে বর্ণনা করেছিলেন এবং ২০১৮ সালে সেটা থেকে বেরিয়ে আসেন।

Manual1 Ad Code

আলোচনায় আরও একটি বিষয় আছে। ইরান চাইছে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের প্রায় ৬০০ কোটি ডলার ছেড়ে দিক। এই অর্থ কাতারে আটকে আছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের নিষেধাজ্ঞার কারণেই এই অর্থ আটকে আছে।

Manual3 Ad Code