যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের চুক্তির পথে বাধা যে ৫টি বিষয়

প্রকাশিত: ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২১, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের চুক্তির পথে বাধা যে ৫টি বিষয়

Manual3 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে। কিন্তু দুই পক্ষের আলোচনা এখনো কোনো মীমাংসায় পৌঁছায়নি। ইসলামাবাদে একটানা ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরও কোনো চুক্তি হয়নি।

 

গেল সপ্তাহে সেই আলোচনা শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমার মনে হয়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি খারাপ খবর।’

Manual3 Ad Code

আল জাজিরা জানাচ্ছে, মূলত ৫টি বড় বিষয়ে আটকে আছে দুই পক্ষ। সেগুলো হলো—

Manual7 Ad Code

পারমাণবিক কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চাইছে ইরান পুরোপুরি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক। তারা অভিযোগ করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও এর কোনো প্রমাণ তারা দেখায়নি।

Manual1 Ad Code

ইরান বলছে, তাদের এই কার্যক্রম সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক কাজের জন্য। ইসলামাবাদ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেয়। ইরান পাল্টা প্রস্তাব করে পাঁচ বছরের স্থগিতাদেশের। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেটি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইউরেনিয়াম মজুদ
মার্কিন আলোচকরা চাইছেন ইরান তার প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে দিক এবং ৪০০ কিলোগ্রামের বেশি অতি-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করুক। এই ইউরেনিয়াম আমেরিকার বোমা হামলায় মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন।

তবে ইরান এই বিষয়ে একেবারেই রাজি নয়।

হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন ইরানের হাতে। এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যায়। ইরান চাইছে বন্দর অবরোধ উঠে যাক, আর তখন প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেবে।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, কোনো টোল ছাড়াই প্রণালি উন্মুক্ত করতে হবে। লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রব গেইস্ট পিনফোল্ড বলেছেন, ‘এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিষয় নয়। এটি এই অঞ্চলের মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার বিষয়ও।’

ইরানের জব্দকৃত সম্পদ নিষেধাজ্ঞা
আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও জব্দকৃত সম্পদের বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। ইরান দাবি করছে ২০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দিতে হবে এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।

Manual4 Ad Code

যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক ইস্যু, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার দাবি করছে।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। সেই সময়সীমার মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে পাকিস্তান এখন মধ্যস্থতায় নামছে।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ