যে কারণে বিয়ের আগে রাতে টানা ২৫ দিন শুধু লাউ খান আরতি সিং

প্রকাশিত: ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০২৬

যে কারণে বিয়ের আগে রাতে টানা ২৫ দিন শুধু লাউ খান আরতি সিং

Manual6 Ad Code

বলিউড অভিনেতা গোবিন্দর ভাগ্নি বিগবস ১৩-খ্যাত অভিনেত্রী আরতি সিং তার বিয়ের আগে ওজন কমাতে যে ডায়েট অনুসরণ করেছিলেন, পুষ্টিবিদদের মতে তা খুব একটা স্বাস্থ্যকর বা দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতি ছিল না। আরতি বলেছেন, প্রতিদিনের রাতের খাবারে টানা ২৫ দিন শুধু লাউ খেয়ে তিনি প্রায় পাঁচ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন। বিয়ের আগে দ্রুত ওজন কমাতে তার এই চমকপ্রদ উদাহরণ বেশ আলোচিত হয়েছে।

অভিনেত্রী আরতি সিং ২৫ দিন ধরে রাতে শুধু লাউ খেয়ে থেকেছেন। আর তাতেই নাকি মাত্র ২৫ দিনে ৫ কিলোগ্রাম ওজন কমিয়ে ফেলেন তিনি। বিয়ের ছবিতে রোগা দেখাচ্ছে, না কি মোটা? বিয়ের অনুষ্ঠানের থেকে বেশি দুশ্চিন্তা ছবি নিয়েই থাকে কনেদের। বিশেষ করে বলিউড তারকারা এই প্রবণতায় ইন্ধন দিয়েছেন। কনেদের মনের ভেতরে ঠিক কী চলে, তারা কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করেন, তারই উদাহরণ হয়ে উঠলেন মুম্বাইয়ের টেলি অভিনেত্রী।

Manual2 Ad Code

সিনেমা কিংবা ধারাবাহিকের পর্দায় কেমন দেখাচ্ছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বিয়ের ছবি ও ভিডিও। এই ধারণা থেকেই বিয়ের আগে চেহারায় বড়সড় বদল এনেছিলেন আরতি সিং। সে কথাই প্রকাশ করলেন সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী।

বিয়ের আগে দ্রুত ওজন কমাতে কিনা করা হয়! তারই এক চমকপ্রদ উদাহরণ তৈরি করলেন আরতি সিং।  বিয়ের আগে শুধু লাউ খেয়ে থেকেছেন তিনি। আর তাতেই নাকি মাত্র ২৫ দিনে পাঁচ কিলোগ্রাম ওজন কমিয়ে ফেলেন! যদিও চটজলদি এভাবে ওজন কমানো আদৌ স্বাস্থ্যকর কিনা, তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু লাউয়ের উপকারিতাও অনেক। ফলে ভালো-মন্দ— দুদিকই রয়েছে। আরতি যেভাবে লাউ-নির্ভর ডায়েট মেনে চলেছেন, তা জানা যাক বিস্তারিত।

অভিনেত্রী বলেন, প্রতিদিন নৈশভোজে তার পাতে শুধু লাউ থাকত। উপরন্তু তাতে থাকত না কোনো ভারি মসলা। শুধু সামান্য লবণ আর ধনেপাতা দিয়ে সেদ্ধ করা খাবার। ব্যাস! আর কিছু নয়। সব কিছু প্রেশারকুকারে ভরে সেদ্ধ করে তারপর ভালো করে ঘেঁটে নিতেন তিনি।

Manual3 Ad Code

আরতি সিং বলেন, বিয়ে একবারই করব, তাই ছবিতে রোগা দেখাতেই হতো নিজেকে। আর সে কারণেই এই ডায়েট করেছি।

Manual1 Ad Code

কিন্তু আপনি কি এই ডায়েট করে বিয়ের প্রস্তুতি নিতে পারবেন?— এমন প্রশ্নেরও সম্মুখীন হন অভিনেত্রী। লাউ এমনিতেই কম ক্যালোরিযুক্ত একটি খাবার। তা মূলত জল ও ফাইবারে ভরপুর। তাই অনেকেই এ সবজিকে ওজন কমানোর ডায়েটে রাখেন। কিন্তু এখানেই লুকিয়ে রয়েছে সমস্যার মূল।

এ বিষয়ে পুষ্টিবিদরা বলছেন, একটানা একই ধরনের কম ক্যালোরির খাবার খেলে ওজন কমবে স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু সেটি স্বাস্থ্যকর বা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কেন এ ধরনের ডায়েট স্বাস্থ্যকর নয়, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।

প্রথমত এ ধরনের ডায়েটে আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়। প্রোটিনের পরিমাণ কম থাকে, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট পাওয়া যায় না, ভিটামিন ও খনিজের অভাব দেখা দিতে পারে। আর দ্রুত ওজন কমে যাওয়ার কারণ, শরীরে পানির ভাগ কমে যায়। কার্বোহাইড্রেট কম খেলে শরীর পানি ধরে রাখতে পারে না। ফলে ওজন কমে যায়। কিন্তু ওজন কমলেও চর্বি নাও কমতে পারে। এর পাশাপাশি পানি ও পেশির ক্ষয়ের ফলে শরীর দুর্বল হয়ে যায় হঠাৎ করে।

এ ছাড়া প্রতিদিন একঘেয়ে খাবার দীর্ঘদিন চললে আপনার শরীরের ওপর চাপ বাড়ে। ক্লান্তি ও দুর্বলতা, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, আয়রন ও ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি দেখা দেওয়া, মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়া— এমনকি বিপাকক্রিয়াও ধীর হয়ে যেতে পারে। ফলে পরে ওজন কমানো আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

এ ধরনের প্রতিদিনের ডায়েটে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো— এটি দীর্ঘ মেয়াদে টেকে না। একই খাবার বারবার খেতে খেতে বিরক্তি আসে। খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। হঠাৎ করে স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। ফলে আবার দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে জন্য স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানোর জন্য দরকার ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস। তার জন্য দানাশস্য, প্রোটিন, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, বিভিন্ন সবজি, কার্বোহাইড্রেট ভরা খাবার খেতে হবে। এর সঙ্গে নিয়মিত শরীরচর্চাও জরুরি। প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ এক কেজি ওজন কমানোই নিরাপদ এবং সেটিকেই দীর্ঘস্থায়ী লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়।

Manual3 Ad Code