যে পুরুষকে বেশি আকর্ষণীয় বললেন জেনিফার লোপেজ

প্রকাশিত: ৮:৪৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২৬

যে পুরুষকে বেশি আকর্ষণীয় বললেন জেনিফার লোপেজ

Manual2 Ad Code

বিলাসবহুল জীবনযাপন, দামি ঘড়ি কিংবা ব্যক্তিগত বিমান—অনেকের কাছে এগুলো একজন পুরুষের আকর্ষণের প্রতীক হতে পারে। কিন্তু হলিউড তারকা জেনিফার লোপেজের চোখে সত্যিকারের আকর্ষণ লুকিয়ে থাকে একেবারে সাধারণ কিছু অভ্যাসে। তাঁর মতে, প্রতিদিনের ছোট ছোট দায়িত্বশীল ও যত্নশীল আচরণই একজন মানুষকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে।

Manual4 Ad Code

৫৬ বছর বয়সী গায়িকা-অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজ ১৬ জুলাই ইতালির সিসিলির টাওরমিনার ইসোলা বেলায় ডলচে অ্যান্ড গাব্বানার আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার সময় ব্যক্তিগত সম্পর্ক, স্বাধীনতা এবং পারস্পরিক যত্নের গুরুত্ব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

২৪ জুলাই ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পারফরম্যান্সের ফাঁকে দর্শকদের সঙ্গে প্রাণবন্ত আড্ডায় মেতে ওঠেন তিনি। আলোচনায় উঠে আসে আত্মনির্ভরশীলতা, ভালোবাসা এবং সম্পর্কে একে অপরের প্রতি দায়িত্ববোধের বিষয়।

মঞ্চে নিজের পুরুষ ব্যাকআপ নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে মজার কথোপকথনের একপর্যায়ে লোপেজ রসিকতা করে একজনকে তাঁর চুল ঠিক করে দিতে বলেন। পরে হাসতে হাসতেই অন্যদের উদ্দেশে বলেন, তাদের টাকার প্রয়োজন তার নেই; এমনকি দামি উপহারও তার দরকার নেই।

দর্শকদের উদ্দেশে লোপেজ বলেন, বহু বছর ধরেই মানুষ তাকে দেখে মনে করে তিনি খুবই ‘দামি’ একজন নারী। নিজের বহুল আলোচিত ‘স্পার্কলি কাপ’ প্রসঙ্গ টেনে তিনি মজা করে স্বীকারও করেন, তিনি সত্যিই ‘দামি’। তবে একই সঙ্গে উপস্থিত নারীদের মনে করিয়ে দেন, তাদের নিজেদের উপার্জন রয়েছে। তাই কোনো কিছু কিনে দেওয়ার জন্য অন্য কারও ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। যদিও ভালোবাসার মানুষ যদি আন্তরিকতা থেকে কোনো উপহার দেন, সেটি অবশ্যই আনন্দের।

Manual6 Ad Code

এরপরই তিনি জানান, একজন পুরুষের কোন গুণ তাঁকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে।

‘জানো, একজন পুরুষকে সত্যিকারের আকর্ষণীয় করে তোলে কী? সেটা ঘড়ি নয়, গাড়ি নয়, ব্যক্তিগত বিমানও নয়। অবশ্য এগুলো ভালো লাগতেই পারে। কিন্তু সত্যিকারের আকর্ষণীয় লাগে, যখন দেখি সে সকালে নিজের বিছানা গুছিয়ে রাখে বা রাতে আমি ক্লান্ত থাকলে আমার জন্য বাসন ধুয়ে দেয়,’ বলেন লোপেজ।

তিনি আরও বলেন, ‘এটাই আমার কাছে সেক্সি। সত্যিই এটাকেই আমি সেক্সি বলি। কারণ, নারীরাই তো প্রায় সব কাজ করে থাকি।’

Manual8 Ad Code

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সব সময় আলোচনায়

জেনিফার লোপেজের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তার ব্যক্তিগত জীবন দীর্ঘদিন ধরেই জনসমক্ষে আলোচনার বিষয়।

লোপেজ প্রথম বিয়ে করেন ওজানি নোয়াকে। ১৯৯৭ সালে শুরু হওয়া সেই দাম্পত্য ১৯৯৮ সালেই শেষ হয়। এরপর তিনি নৃত্যশিল্পী ক্রিস জাডকে বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারও ২০০৩ সালে বিচ্ছেদে শেষ হয়।

২০০৪ সালে গায়ক মার্ক অ্যান্থনিকে বিয়ে করেন লোপেজ। তাদের ঘরে যমজ সন্তান ম্যাক্স ও এমে জন্ম নেয়। এক দশক একসঙ্গে থাকার পর ২০১৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়।

Manual7 Ad Code

এরপর সাবেক বেসবল তারকা অ্যালেক্স রদ্রিগেজের সঙ্গে তার বাগদান হলেও ২০২১ সালে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়।

সবশেষে, ২০০০-এর দশকের শুরুতে আলোচিত প্রেমিক বেন অ্যাফ্লেকের সঙ্গে বহু বছর পর আবার সম্পর্কে জড়ান লোপেজ। ২০২২ সালে তারা বিয়ে করেন। তবে ২০২৪ সালে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাদের বিচ্ছেদ আইনিভাবে চূড়ান্ত হয়।

জেনিফার লোপেজের বক্তব্যে আবারও স্পষ্ট হলো, সম্পর্কের সৌন্দর্য কেবল আড়ম্বর বা অর্থসম্পদে নয়; বরং পারস্পরিক সম্মান, দায়িত্ববোধ এবং প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্নশীল আচরণেই। তার মতে, একজন মানুষের সত্যিকারের আকর্ষণ প্রকাশ পায় তখনই, যখন তিনি ভালোবাসার মানুষটির পাশে দাঁড়াতে জানেন এবং দৈনন্দিন জীবনের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।