সিলেট টাইটান্সের নাসুমের বকেয়া বিতর্ক: সব অর্থ পরিশোধের দাবি

প্রকাশিত: ৪:১১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২৬

সিলেট টাইটান্সের নাসুমের বকেয়া বিতর্ক: সব অর্থ পরিশোধের দাবি

Manual5 Ad Code

স্পোর্টস ডেস্ক :: বিপিএলের সর্বশেষ আসরে সিলেট টাইটান্সের হয়ে খেলা জাতীয় দলের স্পিনার নাসুম আহমেদের ৩৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিক বকেয়া রয়েছে। এমন দাবি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
রোববার বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে সিলেট টাইটান্স কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতির শুরুতেই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টালে নাসুম আহমেদের বকেয়া পাওনা সংক্রান্ত যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তাতে তথ্যের অসামঞ্জস্যতা রয়েছে বলে তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এর ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করে এবং প্রকৃত সত্য তুলে ধরতেই এই ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলে জানায়।
সিলেট টাইটান্সের দাবি, বিপিএল ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক সংক্রান্ত বিষয়টি গত মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কার্যালয়ে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী নাসুম আহমেদের মোট পাওনা ছিল ৩৫ লাখ টাকা (বি-ক্যাটাগরি), যা তারা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজির ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার কোনো বকেয়া অর্থ তাদের কাছে নেই।
বোনাস প্রসঙ্গেও ব্যাখ্যা দিয়েছে সিলেট টাইটান্স। তারা জানায়, নিলামের আগে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পারিশ্রমিক ও বোনাস নিয়ে মৌখিক আলোচনা হয়েছিল, যেখানে শর্ত ছিল দল যদি চ্যাম্পিয়ন হয় তবে অতিরিক্ত বোনাস দেওয়া হবে। তবে দল কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে না পারায় ওই বোনাস প্রদানের কোনো চুক্তিগত বা আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়নি। ফলে স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র অনুযায়ীই সব আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে বলে তারা দাবি করে।
পেমেন্ট পদ্ধতি নিয়েও ব্যাখ্যায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি জানায়, নাসুম আহমেদের অনুরোধেই তার প্রাপ্য অর্থ নগদে সরাসরি পরিশোধ করা হয়, ব্যাংকিং পদ্ধতিতে নয়। একই সঙ্গে টুর্নামেন্ট চলাকালীন নিরাপত্তার কারণে অগ্রিম হিসেবে দেওয়া কিছু চেক অন্যান্য খেলোয়াড়রা পেমেন্ট গ্রহণের পর ফেরত দিলেও নাসুম আহমেদ সেই চেকগুলো এখনো ফেরত দেননি বলে দাবি করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে পাওনা বুঝে নেওয়ার নির্ধারিত দিনে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে একাধিকবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও চেকগুলো ফেরত দেননি, যা তারা অনভিপ্রেত হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সবশেষে সিলেট টাইটান্স কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা সবসময় খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব এবং প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। চুক্তি অনুযায়ী নাসুম আহমেদের সব পাওনা ইতিমধ্যেই পরিশোধ করা হয়েছে এবং বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে তার কোনো বকেয়া নেই বলেই তারা দাবি করেছে। এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেছে তারা।